প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানকে কোনো ধরনের মাশুল বা টোল প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট শিপিং কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এমনকি এই অর্থ যদি ইরানি কোনো এনজিও-তে অনুদান হিসেবেও দেওয়া হয়, তবুও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণকারী অফিস (ওফ্যাক) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের বিনিময়ে ইরান বিভিন্ন শিপিং কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ দাবি করছে বলে তারা জানতে পেরেছে। তাদের মতে, ইরান এই অর্থ সংগ্রহের জন্য প্রচলিত মুদ্রা, ডিজিটাল অ্যাসেট (ক্রিপ্টোকারেন্সি) বা অনানুষ্ঠানিক বিনিময়ের মতো বিভিন্ন উপায় প্রস্তাব করছে।
সতর্কবার্তায় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থ সরাসরি না নিয়ে ‘ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’, ‘বনিয়াদ মোস্তাজাফান’ বা ইরানি দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে ‘দাতব্য অনুদান’ হিসেবে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অর্থ প্রদানের পদ্ধতি যাই হোক না কেন, ইরানের সঙ্গে এ ধরনের লেনদেন করলে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের শিপিং প্রতিষ্ঠানই নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে।
ওফ্যাক জানিয়েছে, নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানি সরকারের কাছ থেকে কোনো গ্যারান্টি নেওয়া বা তাদের শর্ত মেনে অর্থ প্রদান করা সম্পূর্ণ বেআইনি। মূলত ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তেহরান যে কৌশলী অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে, তা নস্যাৎ করতেই ওয়াশিংটন এই কড়া পদক্ষেপ নিল। এর ফলে এই রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল।