ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কার © সংগৃহীত
মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের মুখে গত কয়েক দিনে ইরানের ১০.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেলবাহী অন্তত ছয়টি ট্যাঙ্কার পুনরায় ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। খবর রয়টার্সের
শিপ-ট্রাকিং সংস্থা কেপলার এবং সিনম্যাক্স-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র সাতটি জাহাজ পার হয়েছে, যার একটিও বৈশ্বিক বাজারের জন্য তেলবাহী ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তারা ইরান সংশ্লিষ্ট অন্তত ৩৭টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ করা হয়, যা বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে। অন্যদিকে, কিছু জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছে।
গত ২৪ এপ্রিল প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে দুটি ট্যাঙ্কার এশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হতে সক্ষম হলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, মার্কিন বাহিনী মালাক্কা প্রণালি পর্যন্ত এই নজরদারি সম্প্রসারিত করেছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে কয়েকশ জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন।
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)-এর সেক্রেটারি জেনারেল আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নাবিকদের মানসিক চাপের পাশাপাশি বড় ধরনের পরিবেশগত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’