মালির সামরিক স্থাপনায় হামলা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৫ AM
মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী © সংগৃহীত

মালির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় চালানো এক সমন্বিত হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। সরকারের এক মুখপাত্র এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে লড়াই চলাকালীন সামরিক সরকারের জন্য কামারার মৃত্যু এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর আল জাজিরা।

সরকারের মুখপাত্র ইসা ওসমান কুলিবালি রোববার এক বিবৃতিতে জানান, সাদিও কামারার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তিনি নিহত হন। শনিবার গ্যারিসন শহর কাতিতে কামারার বাসভবনে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা একযোগে এই হামলা চালায়।

সাদিও কামারা ২০২০ এবং ২০২১ সালের পর পর দুটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সামরিক সরকারের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। আল জাজিরার সাংবাদিক নিকোলাস হ্যাক জানান, 'তিনি বর্তমান সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং অনেকে তাঁকে মালির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে বিবেচনা করতেন। তাঁর মৃত্যু দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি বড় ক্ষতি।'

নিকোলাস হ্যাক আরও জানান, রাজধানী বামাকো থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক শহর কাতিতে কামারার বাড়িতে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়। এই শহরেই অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিম গোইতা বাস করেন। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলায় কামারার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাঁর দুই নাতিও নিহত হয়েছেন।

কাতি শহরটিকে মালির সবচেয়ে নিরাপদ এলাকাগুলোর একটি মনে করা হতো। তা সত্ত্বেও আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী 'জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন' এবং তুয়ারেগ যোদ্ধাদের সংগঠন 'আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট'  সেখানে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। তবে প্রেসিডেন্ট আসিম গোইতা সুস্থ আছেন এবং বর্তমানে একটি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন।

সন্ত্রাসীরা কেবল কাতি নয়, রাজধানী বামাকোসহ উত্তরের গাও ও কিদাল এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর সেভারেতেও হামলা চালায়। বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, কিদাল শহরে রোববারও ভারী গুলিবর্ষণ এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। হামলা শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরও অভিযান অব্যাহত ছিল।

বিশ্লেষক বুলামা বুকার্তি মনে করেন, আগামী দিনগুলোতে কৌশলগত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে আরও বড় লড়াই হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আগে যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে লড়াই করত, তারা এখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। বুকার্তি বলেন, 'এই দুই গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করলেও গত বছর তারা একজোট হয়ে কাজ করার চুক্তি করেছিল। গত কয়েকদিনের ঘটনা সেই চুক্তিরই বাস্তবায়ন।'

আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকান বিষয়ক ব্যুরো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ইরান যুদ্ধের শুরুতে আরব আমিরাতকে ‘আয়রন ডোম’ সরবরাহ করেছিল …
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
গুলিতে প্রাণ গেল যুবদলকর্মীর, ৪৩ ঘণ্টার ব্যবধানে একই স্থানে…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
আই-প্যাক ও 'আইটি সেল': পশ্চিমবঙ্গের ভোটযুদ্ধ এখন যাদের নিয়ন…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
শতাধিক চোরাই মোবাইলসহ দুই চীনা নাগরিক গ্রেফতার
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বৃষ্টির পর ঢাকার বাতাসের মান আজ ‘ভালো’
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানেই মিলল খণ্ডিত দেহ…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬