কেন যুক্তরাষ্ট্রে শান্তি বৈঠকে যাবে না ইরান, ৫ কারণ জানাল তেহরান © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি বৈঠকে না বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তেহরান। বৈঠকের আগে এ সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই অবস্থানের ব্যাখ্যা হিসেবে পাঁচটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ)। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বা রেভল্যুশনারি গার্ড সরাসরি বিবৃতি দেননি, আইআরএনএ-এর অবস্থানকে সাধারণত রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।
আইআরএনএ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক নিয়ে ছড়ানো তথ্য সঠিক নয়।
সংবাদসংস্থাটির দেওয়া ব্যাখ্যায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় না বসার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছে—যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি, ইরানের প্রতি অবাস্তব প্রত্যাশা, বারবার অবস্থান পরিবর্তন, স্ববিরোধী নীতি গ্রহণ ও যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ অব্যাহত রাখা।
আইআরএনএ আরও দাবি করেছে, এসব কারণে কোনো ধরনের গঠনমূলক আলোচনা সফল হওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যকেও ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হয়েছে।
তেহরানের অভিযোগ, একপাক্ষিকভাবে আলোচনার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চাপের কূটনীতি চালাচ্ছে।
এর আগে রবিবার ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তিনি জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদল সোমবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানে পৌঁছাবে। একই পোস্টে তিনি ইরানকে ‘স্বচ্ছ ও যৌক্তিক প্রস্তাব’ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এবং সমঝোতা না হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। আগামী বুধবার সেই প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে।