মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প © সংগৃহীত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পেছনে ব্যয় হওয়া হাজার হাজার কোটি ডলারের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর কাছ থেকে আদায় করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৯ মার্চ) হোয়াইট হাউসের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো এবারও ইরান যুদ্ধের খরচ মার্কিন মিত্র ও আরব দেশগুলোর বহন করা উচিত কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে যুদ্ধের খরচ, ‘আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে তাদের আহ্বান জানাতে বেশ আগ্রহী হবেন। আমি তার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলব না, তবে এটি তিনি ভাবছেন এবং এ নিয়ে আপনারা তার কাছ থেকে আরও বিস্তারিত শুনতে পাবেন।’
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে ইরাকের কুয়েত আক্রমণের পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট যখন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, তখন আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি জার্মানি ও জাপানের মতো মিত্ররা ওয়াশিংটনকে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার (যা বর্তমান মূল্যে ১৩৪ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য) তহবিল সরবরাহ করেছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের মিত্র বা আঞ্চলিক দেশগুলোকে না জানিয়েই একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই ওয়াশিংটনের খরচ হয়েছিল ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। আর একটি গবেষণা সংস্থার মতে, ১২তম দিনে এই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। যুদ্ধটি ৩১তম দিনে পদার্পণ করায় এই খরচের বিল এখন আকাশচুম্বী। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগনের অস্ত্রের মজুত পূরণ ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ চেয়েছে হোয়াইট হাউস।
এদিকে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ায় ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম যুদ্ধের আগের তুলনায় ১ ডলারের বেশি বেড়ে বর্তমানে ৩ দশমিক ৯৯ ডলারে ঠেকেছে। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করছে, সাময়িক এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার সুফলের তুলনায় কিছুই নয়। অন্য দিকে ইরান দাবি করে আসছে যে, তারা কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি এবং আলোচনার মাঝপথে তাদের ওপর এই আগ্রাসন চালানো হয়েছে।