সামরিক বিমান বিধ্বস্ত © সংগৃহীত
কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আমাজন গভীর অরণ্য এলাকায় উড্ডয়নের পরপরই দেশটির বিমান বাহিনীর একটি কারিগরি পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৪ জন নিহত এবং ৭০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ২১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত সোমবার দেশটির পুতোমায়ো বিভাগের পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুতোমায়ো বিভাগের গভর্নর জন গ্যাব্রিয়েল মোলিনা স্থানীয় গণমাধ্যম ‘নতিসিয়াস কারাকল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, নিহত ৩৪ জনের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আহত ৭০ জনকে উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ২১ জনের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। তবে হতাহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের মেয়র লুইস এমিলিও বুস্টোস।
বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল মার্কিন সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের তৈরি ‘হারকিউলিস সি-১৩০’ মডেলের একটি কার্গো পরিবহন বিমান। কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, বিমানটিতে ১১০ জন সেনা সদস্য এবং ১১ জন ক্রুসহ মোট ১২১ জন আরোহী ছিলেন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসেবে এই সংখ্যা ১২৫ জন বলে জানানো হয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের পর মাত্র দেড় কিলোমিটার উচ্চতায় থাকাকালীন বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভূমিতে আছড়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা এদুয়ার্দো সান জুয়ান কালেজাস জানান, উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে রানওয়ের কাছেই বিমানটি কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা খায় এবং পরে একটি গাছের সাথে ডানা লেগে বিধ্বস্ত হয়। এর ফলে বিমানে আগুন ধরে যায় এবং ভেতরে থাকা কিছু বিস্ফোরক সরঞ্জামের বিস্ফোরণ ঘটে।
দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়। শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয়রা মোটরসাইকেলে করে আহত সেনাদের দ্রুত সরিয়ে নিচ্ছেন। লকহিড মার্টিন কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার তদন্তে কলম্বিয়াকে পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এক্সে বলেন, ‘আমি আর কোনো বিলম্ব সহ্য করব না; আমাদের তরুণদের জীবন এখানে ঝুঁকির মুখে। যদি বেসামরিক বা সামরিক কর্মকর্তারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থ হন, তবে তাদের পদত্যাগ করতে হবে।’ আগামী ৩১ মে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীরাও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানগুলো ১৯৫০-এর দশকে প্রথম চালু হয় এবং কলম্বিয়া ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে প্রথম এই মডেলের বিমান ব্যবহার শুরু করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বৃত্ত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ চুক্তির আওতায় কিছু পুরনো বিমান আধুনিকায়ন করা হয়েছিল। বিধ্বস্ত বিমানটির টেইল নম্বর থেকে জানা গেছে, এটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ করা তিনটি বিমানের একটি। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বলিভিয়ায় একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র: এএফপি এবং রয়টার্স।