ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা
অজিত দোভাল © সংগৃহীত
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল তার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার এড়িয়ে চলেন। শনিবার ‘বিকশিত ভারত ইয়াং লিডারস ডায়ালগ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি নিজেই এ তথ্য জানান।
নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনী কেন্দ্র ‘ভারত মণ্ডপ’-এ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে অজিত দোভাল বলেন, তিনি সত্যিই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না এবং খুব সীমিত ক্ষেত্র ছাড়া মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন না।
দোভাল বলেন, আমি ইন্টারনেট ব্যবহার করি না—এটা সত্য। পারিবারিক প্রয়োজন বা বিদেশে কারও সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ ছাড়া আমি ফোনও ব্যবহার করি না। এভাবেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। যোগাযোগের আরও অনেক পদ্ধতি আছে, পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলো সাধারণ মানুষ জানে না।
বর্তমানে অজিত দোভাল ভারতের পঞ্চম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি গোয়েন্দা কার্যক্রম, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৪৫ সালে উত্তরাখণ্ডে জন্ম নেওয়া অজিত দোভাল ১৯৬৮ সালে আইপিএসে যোগ দেন। অসাধারণ সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কনিষ্ঠতম পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ‘কীর্তি চক্র’ পুরস্কার অর্জন করেন। কর্মজীবনে মিজোরাম, পাঞ্জাব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহ দমন অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অজিত দোভালের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ২০১৬ সালে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং ২০১৯ সালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোটে বিমান হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তার ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে দোকলাম সংকট মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তানীতি নির্ধারণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৯৯ সালে কান্দাহারে ‘আইসি-৮১৪’ বিমান ছিনতাই সংকটে ভারতের প্রধান আলোচক ছিলেন অজিত দোভাল। ১৯৭১ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত একাধিক বিমান ছিনতাই মামলার সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া গোপন অভিযানে তিনি বহু বছর পাকিস্তানেও কাজ করেছেন বলে জানা যায়।
প্রসঙ্গত, গত বছর অজিত দোভালের নামে একটি ভুয়া ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে পাকিস্তান থেকে সম্ভাব্য সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের সরকারি ফ্যাক্টচেক সংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) জানায়, অজিত দোভালের কোনো অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই এবং ওই পোস্টটি সম্পূর্ণ বানোয়াট।
সুত্র: এনডিটিভি