এন্টার্কটিকায় বরফের নিচে বনভূমি © সংগৃহীত
এন্টার্কটিকা বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে মাইলের পর মাইল সাদা বরফের চাদর আর হাড়কাঁপানো শীত। কিন্তু কোটি কোটি বছর আগে এই মহাদেশের রূপ এমন ছিল না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, আজকের বরফে ঢাকা এন্টার্কটিকা এক সময় ছিল সবুজে ঘেরা এক গভীর বনভূমি।
ব্রিটেনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টুয়ার্ট জেমিসনের নেতৃত্বে একদল গবেষক পূর্ব এন্টার্কটিকার ‘উইলকিস ল্যান্ড’ এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণা চালাচ্ছিলেন। বরফের স্তরের পরিবর্তন বুঝতে তারা ড্রিল মেশিন দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে গর্ত করেন। আর সেখানেই মেলে এক বিস্ময়কর জগত। বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকা পলির নমুনায় পাওয়া যায় প্রাচীন উদ্ভিদের জীবাশ্ম, পরাগরেণু এবং গাছের পাতার টুকরো। এই নমুনাগুলো পরীক্ষা করে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এগুলো প্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ বছরের পুরনো।
অধ্যাপক জেমিসন এই আবিষ্কারকে একটি ‘টাইম ক্যাপসুল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, এটি এমন এক সময়ের কথা বলে যখন এন্টার্কটিকা আজকের মতো জনমানবহীন মরুভূমি ছিল না। কৃত্রিম উপগ্রহ ‘র্যাডারস্যাট’-এর সাহায্য নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, বরফের নিচে লুকিয়ে আছে প্রাচীন নদী উপত্যকার চিহ্ন। অর্থাৎ, এক সময় এই মহাদেশে জঙ্গল এবং প্রবহমান নদী—সবই ছিল।
ইতিহাস বলছে, কোটি কোটি বছর আগে এন্টার্কটিকা ছিল ‘সুপার কন্টিনেন্ট’ বা মহামহাদেশ গন্ডোয়ানার অংশ। তখন এটি আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে গন্ডোয়ানা ভাঙতে শুরু করলে আন্টার্কটিকা আলাদা হয়ে যায়। আলাদা হওয়ার অনেক পর পর্যন্ত সেখানে বনভূমি টিকে ছিল, যা পরবর্তী সময়ে জলবায়ুর পরিবর্তনে ধীরে ধীরে বরফের নিচে চাপা পড়ে যায়।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার বর্তমান সময়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বুঝতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোটি কোটি বছর ধরে এন্টার্কটিকার গঠন কীভাবে বদলেছে, তা জানতে পারলে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ আবহাওয়া সম্পর্কে আরও নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে। এই হারিয়ে যাওয়া অরণ্যের খোঁজ বিজ্ঞানীদের সামনে গবেষণার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।