দেশে কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আশা, ২ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে © সংগৃহীত
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস থাকলেও নদীগুলোর পানি পরিস্থিতি ও লঘুচাপের গতিবিধির ওপর সার্বিক নজর রাখছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর দুইটি জেলার দুইটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাপাউবো'র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাসের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে নদ-নদীর সর্বশেষ পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে ১টি নদীর ২টি জেলার ২টি পয়েন্টে—কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে এবং এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে।
নদ-নদীর সার্বিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেলেও সুরমা নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে। সুরমা নদীর এই পানি হ্রাস আগামী ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে; তবে নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে। একই সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, খোয়াই, ধলাই ও সারিগোয়াইন নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেলেও তা আগামী ৩ দিন হ্রাস পেতে পারে। অপরদিকে উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে এবং এই পানি হ্রাস পাওয়ার ধারা আগামী ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।