আবহাওয়া অধিদপ্তর © সংগৃহীত
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে টানা কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় টানা বৃষ্টি আর কতদিন চলবে এবং বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে কি না এমন প্রশ্ন এখন অনেকের।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই)ও দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আমবাগান স্টেশনে সর্বোচ্চ ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ৩০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ২৪৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২৩৫ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ১৪২ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৩০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৫ মিলিমিটার এবং তেঁতুলিয়ায় ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকার অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি। গত তিন দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনঃপ্রকাশের নির্দেশ
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে আগামী অন্তত দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এখনো ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারতের ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
কেন্দ্রটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবারও ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্তত ছয়টি বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।