প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
আগামী ২১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, সুরমা ও কুশিয়ারাসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আজ রবিবার (২১ জুন) প্রকাশিত কেন্দ্রের পানি সমতলবিষয়ক সাপ্তাহিক ধারণাগত পূর্বাভাসে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী সাত দিনে আরও দ্রুত বাড়তে পারে। এই সময়ে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে।
এছাড়া সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি বাড়ছে। এ ছাড়া নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবন বা আকস্মিক বন্যা তৈরি করতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, গত দুই দিনে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং ওপারে ভারতের মেঘালয়সহ উজান এলাকাগুলোতে রেকর্ড ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী ১০ দিনে এই তিনটি বিভাগে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে কোথাও কোথাও পাহাড়ি ঢল বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডেরও (আকস্মিক বন্যা) আশঙ্কা রয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের মাত্রার ওপর। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি।”
বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২১ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ১০ দিনে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থানভেদে ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী ও হালদা নদীর পানি কিছুটা কমলেও ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহরী, সেলোনিয়া ও গোমতী নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। তবে পূর্বাভাস বলছে, আগামী ৭ দিনে উজান ও অভ্যন্তরীণ বৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানিও সময়বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।