রাজধানীতে হাড়ি-পাতিল নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের বিক্ষোভ মিছিল। © সংগৃহীত
জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীতে হাড়ি-পাতিল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল তিনটায় উত্তর বাড্ডায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বাজারে গিয়ে মানুষের চোখেমুখে হতাশা ও অস্বস্তি দেখা যাচ্ছে। মানুষের আয় ও দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। দফায় দফায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের আয় বাড়ছে না। অবিলম্বে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শুধু কার্ড বিতরণ করে জনগণের অসন্তোষ দূর করা যাবে না। জনগণের আস্থা হারালে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি ন্যায্য। তাঁদের ওপর লাঠিপেটা বা হয়রানি না করে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দাবি মেনে নিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদেরও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন নাশকতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার বিভাজনের সূচনা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমানসহ জামায়াতের মহানগরী ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা। সমাবেশ শেষে উত্তর বাড্ডা সেতুর নিচ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।মিছিলটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়।