ঢাবির বাজেটে বাড়ছে গবেষণা বরাদ্দ

ঢাবির বাজেটে বাড়ছে গবেষণা বরাদ্দ
ঢাবির বাজেটে বাড়ছে গবেষণা বরাদ্দ  © ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৯২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বাজেট বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে উপস্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট। এ ছাড়া ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য সিন্ডিকেট ৮২২ কোটি ৪১ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়। সিনেট অধিবেশনে বাজেট উত্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ। উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

উত্থাপিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জন্য ৯২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বাজেট অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে পাওয়া যাবে ৭৮১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থ বছরে মূল বাজেটে ইউজিসির নিয়মিত অনুদান ছিল ৬৯৬.৫৪ কোটি টাকা যা পরবর্তীতে সংশোধিত হয়ে দাঁড়ায় ৭৩১.২৮ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ইউজিসির অনুদানের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বরাদ্দ ৫০ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা বেড়েছে।

আরও পড়ুন: ৯২২ কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন ঢাবির

সিন্ডিকেট সদস্যরা জানান, নতুন অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা মঞ্জুরি হিসেবে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ১১ কোটি টাকা, যা ছিল মোট বাজেটের ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হিসেবে মোট বাজেটের ২৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও ভাতা হিসেবে ২৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ ব্যয় ধরা হয়েছে। এতে নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা এবং ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৬.২৪%।

ঘাটতি বাজেটের বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। তাই নিজস্ব তহবিল থেকে ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে না। প্রতি বছর এভাবে তহবিলের ঘাটতি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের নতুন নতুন খাত খুঁজে বের করতে হবে অথবা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুদান চাওয়া যেতে পারে।

অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাদ্দাম হোসেন ও তিলোত্তমা শিকদার। তবে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এই অধিবেশন বর্জন করেন।

অধিবেশনের শুরুতে করোনাকালে মারা যাওয়া স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ ও নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর উপাচার্যের অভিভাষণের মাধ্যমে শুরু হয় বার্ষিক অধিবেশনের মূল কর্মসূচি। উপাচার্যের অভিভাষণের পর কোষাধ্যক্ষ বাজেট উপস্থাপন করেন।


x