গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আসার পর ডাকসু নির্বাচন থেমে গেল: সিরাজুল ইসলাম

১২ মার্চ ২০২২, ০৪:০৬ PM
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্পর্কে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমি নয় বছর ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ছিলাম এবং সেই নয় বছর দেশে সামরিক শাসন ছিল। তখনও কিন্তু ছাত্র সংসদ ছিল। তারপর যখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এলো তখন থেকে আশ্চর্যের বিষয় ছাত্র সংসদ এর নির্বাচন থেমে গেল। ছাত্র সংসদের নির্বাচন ছিল উৎসব। সেখান থেকে মেধাবীরা বেরিয়ে আসতো। মেধাহীন ছাত্ররা কখনো নির্বাচিত হতে পারতো না। চৌকস ছেলেরা নেতৃত্বে আসতো।

আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতিকে পথ দেখায়, সংস্কৃতি শেখায়

শনিবার (১২ মার্চ) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পথযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন,দেশ থেকে মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এতে যে শুধু সম্পদ ও পুঁজি চলে যাচ্ছে তা নয় তারা যে মানবিক সম্পদ সেটা চলে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পরে যে তরুণ শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন তারা অনেকেই বিদেশে চলে গেছেন আর ফেরত আসেননি। মেধাবানরা যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতে পারে এবং দেশে মেধার বিকাশ ঘটানোর পরিবেশ যাতে তৈরি হয় সে কাজে মনোযোগী হওয়া অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের একটা বড় কর্তব্য হবে বলে আমি মনে করি।

শিক্ষাব্যবস্থার কিছু ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মাতৃভাষার মাধ্যমে যে অবৈতনিক শিক্ষা চালু করার চেষ্টা করেছিলাম সেটা পারিনি। তার একটি কারণ হলো আমরা বই লিখতে পারিনি এবং সেই সাথে অনুবাদও করতে পারিনি। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর অনুবাদ করা দরকার। কিন্তু এই কাজটি সবাই করতে পারবে না। এটি একটি সমবায়ী কাজ। অনেকে মিলে কাজ করতে হয়, পরামর্শ করতে হয় এবং সংশোধন করতে হয়।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিকতা শিখিয়েছে, এই বিশ্ববিদ্যালয় সহমর্মিতা শিখিয়েছে, আর্তমানবতার জন্য ক্রন্দন করতে শিখিয়েছে। একাত্তরে সালে আমরা দেখেছি এই বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে পাকিস্তানকে তাড়িয়েছিল।’

আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: ঢাবির ‘খ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটের জনপ্রিয় বিভাগগুলো

অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত উৎকর্ষ যাতে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অর্থাৎ গবেষণা, প্রকাশনা ও অনুবাদ এই তিনটি কাজকে উৎসাহিত করতে হবে।কেবল গবেষণা নয় গবেষণাকে হতে হবে সৃজনশীল, উপকারী। তবে খুব বেশি করে দরকার হচ্ছে অনুবাদ।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, লেখক ও রাজনীতিবিদ ইনাম আহমদ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. হামিদা আক্তার বেগম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির, সাবেক সংসদ সদস্য শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. রহমত উল্লাহ।

ট্যাগ: ঢাবি
বড় মাইলফলকে বাবর আজম
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে কে এই বাঘের গালিব…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
দরবারে হামলা, গণপিটুনিতে নিহত ‘পীর’
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
অনলাইন ক্লাস আবারও অটোপাসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কিনা?
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
বিএমইউতে বিশ্ব পারকিনসন্স দিবস উদযাপিত
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
বিদেশগামী কর্মীদের যা করতে হবে, যা করা যাবে না
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
close