অধ্যাপক আবদুল হামিদ © টিডিসি ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবদুল হামিদ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ভোর ৪টায় রাজশাহী নগরীর বিনোদপুর এলাকায় তার নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভোগছিলেন।
অবসরপ্রাপ্ত এই অধ্যাপকের মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী এম. জাকারিয়া।
এসময় উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা তাঁর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করে বলেন, তাঁর মৃত্যু জাতি এক দার্শনিক, গবেষক লেখক ও শিক্ষাবিদ হারালো। এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন তিনি।
১৯৪৩ সালে অধ্যাপক আবদুল হামিদ পটুয়াখালি জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার লেবুবুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিষয়ে ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে যথাক্রমে বিএ (প্রথম শ্রেণি) ও এমএ ডিগ্রি (প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান) এবং ১৯৮২ সালে ভারতের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৬ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগ দেন এবং ১৯৮৭ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবনে তিনি বিভাগীয় সভাপতি, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাপাখানার প্রশাসক ও রাকসুর ট্রেজারার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
ড. আব্দুল হামিদ ১০ টি পিএইচডি ও ৪ টি গবেষণা তত্বাবধান করার পাশাপাশি প্রায় অর্ধশতাধিক এমফিল/পিএইচডি থিসিস পরীক্ষণ করেছেন। এছাড়া দর্শনসাস্ত্রের উপর তাঁর ৬টি পুস্তকসহ দেশে-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে চল্লিশের অধিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, মৃত্যুকালে তিনি এক পুত্র এবং এক কন্যা রেখে গেছেন। তাঁর কন্যা ড. শারমিন হামিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক। আজ বাদ যোহর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মরহুমের জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় গোরস্থানে মরহুমের দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।