রাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুল সালাম ভূইয়া © টিডিসি ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের(রাবি) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ফিসারিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ডক্টর আব্দুল সালাম ভূইয়া মারা গেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার(২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২ টা ৩০ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে কিডনি জনিত সমস্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মনজুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৯৪৬ সালের ৪ জানুয়ারি কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। তারপর ১৯৭২ সালে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন ফেনী কলেজে। এরপর ১৯৭৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন অধ্যাপক আবদুস সালাম ভূইয়া।
১৯৯১ সালে স্বীয় বিভাগের অধ্যাপক পদে পদান্নতি পান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা কালে তিনি ৩ বছর প্রাণবিদ্যা বিভাগ এবং ৩ বছর ফিশারীজ বিভাগে চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ২ বছর কৃষি অনুষদের ডীনও ছিলেন তিনি। ডীনের পদাধিকার বলে ২ বছর রাজশাহী কৃষি কলেজের প্রিন্সিপাল এর দায়িত্ব করেছেন মরহুম এই অধ্যাপক। দীর্ঘ অধ্যাপনা শেষে ২০১৪ সালে ১লা জুলাই চাকুরি হতে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।
দীর্ঘ ৪৩ বছরের অধ্যাপনা কালে অনেক কৃতিত্ব ও খ্যাতি অর্জন করেছেন এই বিখ্যাত অধ্যাপক আব্দুস সালাম ভূইয়া। একক এবং যৌথ ভাবে দেড়শতাধিক সায়েনটিফিক আর্টিকল বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি জার্নালে প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়াও বিসিএস (১ম ব্যাচ) পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে কেডার সার্ভিস পেয়েছিলেন এই অধ্যাপক। বাংলাদেশ ব্যাংক (১ম ব্যাচ) প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অফিসার হিসাবে যোগদানের সুযোগও পেয়েছিলেন।
১৯৯৯ সালে তিনি ভারতের ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স একাডেমি থেকে সার্ক দেশ সমুহের মধ্যে সেরা বিজ্ঞানী হিসাবে ‘সায়েনটিষ্টট অব দি ইয়ার’ এওয়ার্ড এবং স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে নির্বচনী বোর্ডের সদস্য হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার হাত ধরে বহু শিক্ষার্থী রিসার্চ প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন। পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছে প্রায় ২২ জন শিক্ষার্থী।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড মনজুরুল আলম বলেন, ‘মরহুমের মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত। তিনি অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। হাসি মুখে সর্বদা সকলের খোজ নিতেন। বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর অনেক অবদান রেখে গেছেন তিনি। আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মা মাগফিরাত কামনা করছি।’
একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অধ্যাপক আব্দুস সালাম ভূইয়া স্যার, অনেক ভাল মানুষ ছিলেন। তিনি খুবই ছাত্র বান্ধব একজন শিক্ষক ছিলেন। সকলের সমস্যায় সর্বদা এগিয়ে আসতেন। এমনকি অবসর গ্রগণের পরেও তিনি বিভাগে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকাহত। দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের দান করেন।’