রাবির ভর্তি পরীক্ষায় সেকেন্ড টাইমারদের সুযোগ দেয়ার চিন্তা

ভর্তি পরীক্ষা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সেকেন্ড টাইমারদের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথম বর্ষে সশরীরে ভর্তি পরীক্ষা নেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ভর্তি পরীক্ষা কবে নেয়া হবে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্ব করছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন কাউন্সিল সদস্যরা। এর মধ্যে ৬০ নাম্বার নেয়া হবে এমসিকিউ আর ৪০ নাম্বারের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের এসএসসি এবং এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএর ভিত্তিতে কোনো নাম্বার রাখা হবে কিনা সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ফের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলাভবনের ডীন ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর ফজলুল হক।

তিনি জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে নেয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের স্বশরীরেই অংশগ্রহণ করে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। ভর্তি নম্বর বণ্টন বিষয়ে তিনি বলেন, এটা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এবার সেকেন্ড টাইমারদের ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ দেয়ার ব্যাপারেও প্রশাসন ভাবছে বলে জানান তিনি।

এর আগে উপাচার্যদের এক সভায় করোনার কারণে গুচ্ছ পদ্ধতিতে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। তবে বুয়েট, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এতে সম্মত নয়। দেশের এ শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগের নিয়মে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে মত দেন। আজকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক এ বিষয়ে বলেন, ‘করোনার কারণে একেবারেই পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ না থাকলে অনলাইনের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে আরো সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়াটা ঝুঁকির, করোনাও ঝুঁকির।’

রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, ‘অনলাইনে পরীক্ষা নিতে আমরা অভ্যস্ত না। গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট ততটা দ্রুতগতিরও না। সেক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষা দেবে? অনলাইন পরীক্ষা কতটা নিরাপদ তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।’

এ দিকে ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিরোধী বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে একাডেমিক সভায় সিদ্ধান্ত হবে। করোনারা কারণে পরে অন্য সিদ্ধান্তও হতে পারে, সেটি একাডেমিক কাউন্সিল ঠিক করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে না। অনলাইন পরীক্ষা ঝুঁকির, করোনার কথাও চিন্তা করতে হবে। তবে অফলাইনে পরীক্ষার নেয়ার বিষয়ে চিন্তা করছি আমরা।’


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ