বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরও পরে

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির লোগো
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির লোগো  © ফাইল ফটো

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জেএসসি ও এসএসসির ফলাফল গড় করে নির্ধারণ করা হবে এইচএসসির ফল। তবে চলতি বছরের এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া কীভাবে হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময়ের প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ শনিবার ( ১৭ অক্টোবর) থেকে আলোচনা শুরু করছেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। আজ বেলা সাড়ে তিনটায় এ সংক্রান্ত প্রথম বৈঠকে বসছে উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ। এই সভায় ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে মতামতের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনলাইনে জুমের মাধ্যমে বৈঠকটি পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, এইচএসসির ফল প্রকাশে আরও একমাসের বেশি সময় থাকায় সবার সুবিধার কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন উপাচার্যরা। আলোচনার মাধ্যমে এবং অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সবার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান তারা। সেই প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু করছেন উপাচার্যরা।

এ বিষয়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে নেয়া যায় সে ব্যাপারে আজ আমরা অনলাইন বৈঠকে বসছি। সেখানে সবাই আলোচনা করা হবে। আলোচনায় যেসব বিষয় আসবে তা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে তোলা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা করোনার আগে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়ার পক্ষে ছিলাম। এখন করোনার কারণে কীভাবে পরীক্ষা নেয়া হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আমাদের ভালো বিশেষজ্ঞ আছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভার আলোকে এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসা যাবে। কোন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা আমরা জানিয়ে দেব।’

শাবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিষয়টি এমন নয়। আজ যে আলোচনা হবে তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তোলা হবে, উপাচার্যের এককভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। কাউন্সিলের আলোচনায় যা আসবে তা আবার পরিষদের পরবর্তী সভায় তোলা হবে। এরপর হয়তো একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যাবে। এর সঙ্গে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সরকার ছাড়াও আরও অনেকে জড়িত। সবার বিষয় বিবেচনা করে এবং আলোচনা করেই এ বিষয়ে ভালো একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গত বৃহস্পতিবার উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির এক ভার্চ্যুয়াল সভা হয়। সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোর মতো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও পরীক্ষা ছাড়াই কেবল এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করার বিষয়টি বিবেচনা করা যায় কি না বা অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না- এ ধরনের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় ১৭ অক্টোবরের উপাচার্যদের সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। দেশে বর্তমানে দেশে ৪৬টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও ৩৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গুচ্ছ করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এর মধ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে একটি, সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আরেকটি এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আরেকটি গুচ্ছ করে এই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু এবার করোনার কারণে সশরীরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যাবে কি না, সেই প্রশ্নটি সামনে এসেছে। এ ছাড়া এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সরাসরি না নিয়ে জেএসসি, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার গড় ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ অবস্থায় এইচএসসির ফলের পয়েন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে যুক্ত হবে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবারের সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, সমগ্র জাতি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ বিষয়ে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দরকার। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম বেগবান করা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠক্রমে বেশি মাত্রায় সম্পৃক্ত করার জন্য উপাচার্যদের আহবান জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।


মন্তব্য