কেমন আছে করোনা-কালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়?

২২ মে ২০২০, ০৩:৫০ PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র

সমালোচনা আছে, দুর্নাম আছে; আছে মান নিয়েও নানা প্রশ্ন। তারপরও প্রাচ্যের অক্সফোর্ড তার ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছে আজও। গবেষণা আছে, জাতির প্রতিটি অর্জনের ভাগীদার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আজ যাঁরা দেশের শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রশাসন, রাজনীতি, কূটনীতি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার শীর্ষ পদে নিয়োজিত রয়েছেন, তাঁদের প্রায় ৭০% এসেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষালাভ করে। উল্লেখ না করলেও লেখার শিরোনাম ও ওপরের ছবি দেখার পর বুঝতে বাকি নেই, গল্পটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

মাসখানেক পরেই ১০০ বছর পার করবে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এ প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ তো বটেই, গোটা বিশ্বই এখন এমন এক মুহূর্ত পার করছে, যখন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উচ্ছ্বাস তো দূরের কথা, হয়তো ক্যাম্পাসেই কারো পদধূলি পড়বে না। কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাসের কারণে ক্যাম্পাস ঠিক এখন যেমনটি দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বিভিন্ন স্পট ঘুরে এই চিত্রই ধারণ করেছেন— রকিবুল ইসলাম রঞ্জু

ঘাষ লাগিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ চলছে ধুলো জমে থাকা টিএসসির এই চত্বরটিতে
ঘাষ লাগিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ চলছে ধুলো জমে থাকা টিএসসির এই চত্বরটিতে

১৯৬০ সালের দিকে অধিক ছাত্রসংখ্যা ও হলের বাইরে শিক্ষা আহরণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক পরামর্শ কেন্দ্র খোলার তাগিদ অনুভূত হয়। সে উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৬১ সালে একজন পরিচালকের দায়িত্বে ছাত্রবিষয়ক বিভাগ খোলা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৬৬ সালে আলাদা ভবন নির্মাণ করা হলে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সাথে একীভূত হয়। ফলে একই কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চা সম্ভব হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার

ভোর ৬টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যে লাইব্রেরির ভেতর-বাহির ছাত্রপূর্ণ থাকত। তা আজ দেখে বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠে। শুরুতে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা ল’ কলেজ হতে প্রাপ্ত ১৮ হাজার বই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার স্থাপন করা হয়েছিল। এম.ফিল ও পিএইচ.ডি কোর্সের গবেষণা বিষয়ক পান্ডুলিপির সংগ্রহ গ্রন্থাগারটি প্রসারের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। লন্ডন-ভিত্তিক ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরি বিভিন্ন ধরনের বিরল বই উপহার দিয়ে থাকে। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংগৃহীত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৬৫০০০০ এবং প্রাচীন পান্ডুলিপির সংখ্যা প্রায় ত্রিশ হাজার।

ঐতিহাসিক বটতলায় ছাত্র-ছাত্রী নেই, ঘুমিয়ে আছে দুটি কুকুর 
ঐতিহাসিক বটতলায় ছাত্র-ছাত্রী নেই, ঘুমিয়ে আছে দুটি কুকুর 

১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গাছটি লাগিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণও দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র সমালোচিত হলেও এই মার্কিনির ভূমিকা চিরস্মরণীয়। সে সময় এ দেশের মানুষের পাশে না দাঁড়ালেও দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

জানা যায়, এখানে আগেও একটি বটগাছ ছিল, যদিও ১৯৭১ সালে সেটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ঐতিহাসিক দিক থেকেও গাছটির গুরুত্ব ছিল। ছয় দফা বাস্তবায়ন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ১৯৬৯ সালের ১৮ জানুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্ররা এই বটতলা থেকে মিছিল বের করে।

শুকনো পাতাদের দখলে ভিসি চত্বর
শুকনো পাতাদের দখলে ভিসি চত্বর

মল চত্বর, হাকিম চত্বর, ভিসি চত্বর, দোয়েল চত্বর প্রভৃতির নামে চত্বরের ছড়াছড়ি রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মল চত্বরের নামকরণ নিয়ে। কেউ মনে করে ময়লা-আবর্জনা রাখার কারণে এর নাম মল চত্বর, আবার কেউ মনে করে কাক মলত্যাগ করে বলে। তবে নামকরণের মূল ইতিহাস একেবারেই ভিন্ন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাবেক ফরাসী সংস্কৃতি মন্ত্রী অঁদ্রে মলরোর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে একটি বাগানের নামকরণ করা হয় মলরো বাগান। তাই এই বাগানের পাশেই অবস্থিত চত্বরটির নাম হয় মলরো চত্বর, যা লোকমুখে বিবর্তিত হয়ে মল চত্বরে রূপ নেয়।

আর ভিসি চত্বর, যেখানে প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো কড়ই গাছ আর গ্রানাইট পাথরের তৈরি ছোট বড় ১৪টি স্তম্ভের সমন্বয়ে নির্মিত হয়েছে “স্মৃতি চিরন্তন”। মূলত চত্বরটি ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থিত বলেই ভিসি চত্বর নামে পরিচিত।

ঠাঁয় দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক অপরাজেয় বাংলা
ঠাঁয় দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক অপরাজেয় বাংলা

অপরাজেয় বাংলা। অবস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে। নির্মাতা সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ। ভাস্কর্যটিতে তিনজন তরুণের মূর্তি প্রতীয়মাণ। এদের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং একজন নারী। মূর্তির সর্ব ডানে রয়েছে কুচি দিয়ে শাড়ি পরিহিতা প্রত্যয়ী এক যোদ্ধা নারী সেবিকা। তারপাশে কাঁধে রাইফেলের বেল্ট ধরা, কাছা দেওয়া লুঙ্গি পরনে এক যুবক যার ডানহাতে একটি গ্রেনেড- তিনি বৃহত্তর গ্রাম-বাংলার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। আর তার বামপাশে জিন্সপ্যান্ট পরা অপেক্ষাকৃত খর্বকায় তরুণ যার হাতে থ্রি-নট রাইফেল এবং চোখে-মুখে স্বাধীনতার দীপ্ত চেতনা।

একটি তথ্যে পাওয়া যায়, ভাস্কর্যটির নাম “অপরাজেয় বাংলা” হওয়ার কৃতিত্ব সে সময়ের “দৈনিক বাংলার” সাংবাদিক সালেহ চৌধুরীর। তিনি ভাস্কর্য নিয়ে সেসময় দৈনিক বাংলাতে একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন যার শিরোনাম ছিল “অপরাজেয় বাংলা”। পরবর্তীতে এ নামটিই সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়।

১৯৭৩ সালে ভাস্কর্যটির কাজ শুরু হলেও তা শেষ হতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৯৭৯ সালের জানুয়ারি মাসে পুনরায় ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়। ৬ ফুট বেদির উপর নির্মিত এ ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১২ ফুট এবং প্রশস্থতা ৮ ফুট

আড্ডাপ্রিয় শিক্ষার্থীরা ভালোবেসে এর নাম দিয়েছে ‘লন্ডন ব্রিজ’
আড্ডাপ্রিয় শিক্ষার্থীরা ভালোবেসে এর নাম দিয়েছে ‘লন্ডন ব্রিজ’

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে অবস্থিত বলেই চত্বরটি সমাজবিজ্ঞান চত্বর নামে পরিচিত। মনোরম ফোয়ারা, সঙ্গে কয়েক ধাপের বেদি, সবুজে ঘেরা গাছপাল, ছোট ছোট বসার টুল, প্রতীকী লন্ডন ব্রিজ, আর সন্ধ্যার পর লাল-নীলের আলো-আঁধারি পরিবেশ- এসবই চত্বরটির সৌন্দর্য। ক্লাসের ফাঁকে কিংবা লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে কিছু সময়ের জন্য এই জায়গাটিতে সময় কাটানো কিংবা নাস্তা করা রোজকার চিত্র। 

আর্টস বিল্ডিং; শিক্ষার্থীরা যেটাকে কলা ভবন বলে থাকে
আর্টস বিল্ডিং; শিক্ষার্থীরা যেটাকে কলা ভবন বলে থাকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মোট তিনটি অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। এর অন্যতম হলো কলা অনুষদ। বাকি দুটোর মধ্যে ছিল বিজ্ঞান ও আইন। অনুষদটির প্রথম ডিন ছিল ড. আর সি মজুমদার, যার নামে লেকচার থিয়েটারে একটি অডিটোরিয়ামও রয়েছে। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই ভবনের দোতলাতেই প্রথম ‘স্বাধীন বাংলার পতাকা’ উত্তোলন করেছিল।

কাঁদা-পানিতে ডাকসু ভবন এলাকা
কাঁদা-পানিতে ডাকসু ভবন এলাকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে বাংলাদেশের অনুসংসদ বলা হয়। যার শুরুটা হয়েছিল ডাসু নামে; যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি এক টাকা দিয়ে সদস্য হত। ডাসু মূলত অরাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল। বির্তক সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো কর্মসূচিগুলো পালন করাই ছিল এর কাজ। কালের আবর্তে ডাসু হয়ে যায় ডাকসু। বৃদ্ধি পায় এর কর্মকাণ্ডের পরিধিও। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নির্যাতন আর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ডাকসু থেকে আন্দোলনের ডাক আসতে থাকে। গড়ে ওঠে প্রতিবাদের পাহাড়। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ডাকসুর নেতৃবৃন্দের অবদান রয়েছে।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল গেট
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল গেট

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল। প্রথম নাম ছিল ইকবাল হল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানীদের গুলিতে নিহত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৩৫জন আসামীর অন্যতম শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল।

 

সম্প্রতি ক্যাম্পাস এলাকায় কাটা গাছ ও গাছের ডালপালা
সম্প্রতি ক্যাম্পাস এলাকায় কাটা গাছ ও গাছের ডালপালা

 

শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
খুব কঠিন পথে আছি, আপনারা আমাকে হেল্প করুন: চিকিৎসকদের সহযোগ…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
সাতক্ষীরায় তেল সংকটে মোটরসাইকেল বাজারে ধস, বাড়ছে ব্যাটারিচা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
গাইড বই বাণিজ্যের অভিযোগ শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে, তদন্তে ‘ধী…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
মিরসরাই বসতঘর থেকে অজগর উদ্ধার
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
৯ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence