অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ
অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া © টিডিসি সম্পাদিত
অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সরাসরি বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থী নীলদলের সিনিয়র একজন নেতা। ৫ আগস্টের পর বিভাগের সব শিক্ষার্থী তাকে বয়কট করেছিলেন। এই বয়কটের মধ্যেই গত জুনে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি (স্যাবাটিক্যাল লিভ) নিয়ে কানাডায় পাড়ি জামিয়েছেন এই অধ্যাপক।
সম্প্রতি তার অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছেন বিভাগের একদল শিক্ষার্থী। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা এই চেয়ারম্যানকে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপরে আক্রমনের উস্কানিদাতা এবং গণঅভ্যুত্থানে হত্যা চেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে তার অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন।
জানতে চাইলে আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ শাহজাদা আল কারীম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শফিউল আলম স্যার গত জুনে এক বছরের স্যাবাটিক্যাল লিভ নিয়েছেন। আগামী বছরের জুনে তিনি বিভাগে যোগদান করবেন।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর বিভাগের শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়ার চাকরিচ্যুত দাবি করেন। পরে তার সব ক্লাস-পরীক্ষা বয়কট করেছিলেন তারা। সে সময় তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বিভাগের তৎকালীন একাডেমিক কমিটি ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়াকে সকল প্রকার একাডেমিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিভাগের একজন শিক্ষক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর বিভাগের ৫টি ব্যাচের শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়াকে বয়কট করেছে। তবে নতুন আসা দুটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ছুটিতে কানাডায় অবস্থান করছেন।
অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়ার অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতির শ্বেতপত্রে বিভাগের শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় উল্লেখ করেনি। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের সাবেক ও বিভিন্ন বর্ষের বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ’ উল্লেখ রয়েছে।
শ্বেতপত্রে অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়ার বিভাগের অনিয়ম ও জালিয়াতি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সরাসরি বিরোধিতাসহ ৮টি সুনির্দিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।