বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ববিসাস) অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। © সংগৃহীত
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ববিসাস) অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ এ গ্রাউন্ডফ্লোরে কেক কাটা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে ও "গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের করণীয়" শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কনফারেন্স হলের সামনে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাস ও জুলাই আন্দোলনের ওপরে তথ্যচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ এবং প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক আকবর হোসেন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আনিসুর রহমান স্বপন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বছির, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মো. ফরহাদ উদ্দীন এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ববিসাসের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আকবর হোসেন বলেন, গণতন্ত্র আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। গণতন্ত্রের জন্য যেমন গণমাধ্যম দরকার তেমনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য গণতান্ত্রিক চর্চা দরকার। আরেকটি বিষয় সাংবাদিকতা অন্যান্য পেশার মতো নয় এই পেশায় আসার পর কেউ আপনাকে প্রশংসা করবে আবার কেউ আপনাকে নিন্দা করবে দুটোই গ্রহণ করে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। সাংবাদিকের মতাদর্শ থাকতে পারে, এটা সবারই আছে। কিন্তু সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা জরুরি, বস্তুনিষ্ঠতা বজায় থাকলে মতাদর্শ থাকার পরও কারো প্রতি জাস্টিসটা করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, একজন সাংবাদিকের স্বাধীন থাকার বড় শক্তি তার সততা ও পেশাদারিত্ব। এই পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে সরকার ও ক্ষমতাকে তিনি প্রশ্ন করবেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন বলতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সাংবাদিকের সাথে ক্ষমতাশীনদের সবসময় মাঝামাঝি সম্পর্ক বজায় থাকবে। ভালো খারাপ দুটোর কোনটির দরকার নেই। গণমাধ্যমের নিজের এই সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চর্চার কথা বলেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা, বরিশাল শহরের বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক। উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিএম কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ক্রেস্ট প্রদান শেষে সভাপতি মো. রবিউল ইসলমা, সবাইকে অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।