বন্যার্তদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন চবি শিক্ষার্থীরা © টিডিসি
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও খাবার পৌঁছে দিতে পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা। বন্যাকবলিত এলাকায় শত শত ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুর্গত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন তারা।
শনিবারসহ (১১ জুলাই) কয়েক দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চাকসু নেতা, ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ চবির অন্য শিক্ষার্থীরা বাঁশখালীর বাসিন্দা হওয়ায় দুর্যোগের শুরু থেকেই স্থানীয় পানিবন্দী মানুষদের সহযোগিতা করতে মাঠে নামেন তারা।
চবির আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আতাহার বলেন, ‘পানিবন্দী এলাকাগুলোয় আমাদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট, চানাচুর, মোমবাতি, গ্যাসলাইটার, বিশুদ্ধ খাবার পানীয়, স্যালাইনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
চবির শহিদ আবদুর রব হল সংসদের ভিপি মোহাম্মদ বুরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বাঁশখালী আজ ভালো নেই। উপকূলীয় অঞ্চলের এই এলাকার শতভাগ বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মানুষজন অনাহারে রয়েছে। যাদের মাটির ঘর ছিল, পুরোটাই ধ্বসে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংগ্রহকৃত মানবিক সহযোগীতায় মা-বোনদের জন্য সুরক্ষাপ্যাড, শিশুদের ডায়াপারসহ কয়েক লাখ টাকার বাজার করেছি, যা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোয় নৌকা নিয়ে পৌঁছে দিচ্ছি।’
উল্লেখ্য, টানা প্রায় পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, খাগড়াছড়ি শহর, লংগদু উপজেলা, বান্দরবান জেলা শহর, লামা উপজেলা এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। পানি বন্দী প্রায় ১০ লাখ মানুষ। এতে শিশুসহ অনেক হতাহত হয়েছে। দেশের মানুষের সহযোগিতার দিতে তাকিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এসব এলাকার জনগণ।