ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ করেছেন ঢাবির নারী শিক্ষার্থীরা © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে সাবেক এক শিক্ষার্থী দম্পতিসহ সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী এবং এক নারীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ করেছেন শিক্ষার্থীরা। নারী শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে শহীদুল্লাহ হল মাঠে অবস্থান নিয়ে এ খেলা উপভোগ করেন বলে জানা গেছে।
আজ রবিবার (২৮ জুন) সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডান ম্যাচে তারা এ খেলা উপভোগ করেন। পরে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, ‘ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে খেলা দেখতে আসা নারী শিক্ষার্থীদের শিবির নেতা কর্তৃক হেনস্তা এবং অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে আজকে শহীদুল্লাহ্ হল মাঠে খেলা উপভোগ করতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা! নর বাহে হল, নারী বহে জল,সেই জল মাটি মিশে’ ফসল হইয়া ফলিয়া উঠিল সোনালী ধানের শীষে।’
শিবির নেতা ও হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে এতে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা হল প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। এ ছাড়া এই ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হল শাখা ছাত্রদল। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।
প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রী। তার ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, রবিবার সকাল ৮টায় আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে শহীদুল্লাহ হল মাঠে বসে উপভোগ করবেন।
শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘না। হল সংসদের এমনটা করার কোনো এখতিয়ার নেই। হল সংসদকে আমরা এটা জানিয়ে দিয়েছি যে এমনটা তারা করতে পারবে না। যা করতে হয়, হল প্রশাসন করবে। এটা তো স্বাভাবিক কথা, না হলে হল প্রশাসন কেন আছে?’ তারা বর্তমান-প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের বিষয় নিয়ে কোনো নির্দেশনা তৈরি করে দেননি। যাঁরা আসবেন, তারা নিজ দায়িত্বে আসবেন। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তাদের আসতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করতে একজন সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।