হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশ © টিডিসি ফটো
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দেশীয় খুনিদের চিহ্নিতকরণ, পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের অগ্রগতি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দরা।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়।
এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় মাস একদিন। ইন্টেরিম থেকে শুরু করে বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যার রহস্যটাকে পলিটিক্যাল টুলস হিসেবে ব্যবহার করছে। যখনই তেলের দাম বাড়ে, যখন হামে শিশু মরে, যখন ফেরিঘাটে বাস ডুবে যায়, বা যখন দেশে একটা সংকট তৈরি হবে তখন আস্তে করে একটু নাড়া দিবে, যে হ্যাঁ খুনিকে আমরা বাংলাদেশে আনতেছি। এই মুলা ঝুলাতে ঝুলাতে আজকে ছয়টা মাস হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন প্রথম শাহবাগে লাগাতার আন্দোলন চলাতে থাকি তখন কি বলা হয়? তখন বলা হয় আমরা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছি। আমরা তো নির্বাচন দিলাম। আপনাদেরকে ক্ষমতায় বসালাম, এখন আমেরিকার দালালি ছাড়েন, ভারতের দালালি ছাড়েন। বাংলাদেশের আজাদির প্রশ্নে আপনারা এখন যদি সেটা না পারেন, তাহলে দালালি প্রকাশ্যে করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আপনি এতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে যাচ্ছেন, আপনি জাতিসংঘের সাধারণ সভার সভাপতি হতে পারছেন। কিন্তু আপনি হাদি প্রশ্নে, সারা বাংলাদেশের কাছে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা হয়ে যাচ্ছেন । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, আপনি না মদিনার ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চান? আপনি বাংলাদেশের ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। আপনি ইনসাফ কায়েম করেন । না হলে আপনাদের সংসদে যেই হাসিগুলো দেখি , এই হাসি বেশিদিন টিকবে না।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদির আদর্শ, নৈতিকতা, রাজনীতি, মতাদর্শ আমাদের মায়েদের আত্মার ভিতর পৌঁছে গেছে। তারা চায় তাদের সন্তানরা শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হোক। তারা চায় না তাদের সন্তান ওই দালাল বাটপার হোক। আরেকটা দেশের পা চাটে গোলামি করে মন্ত্রী হওয়ার চেয়ে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হয়ে ওই কবরে শুয়ে থাকা আরো শতগুনে ভালো। আমরা সবাই বিশ বছর বাঁচতে চাই, বিশ মাস বাঁচতে চাই, বিশ দিন বাঁচতে চাই, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হয়ে বাঁচতে চাই। কোনো দালাল মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হয়ে বাঁচতে চাই না। অবশ্যই অবশ্যই শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার আপনাদেরকে করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আম্মার বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি আমাদের জুলাইয়ের সহযোগী, শাপলার সহযোগী, ১৮র কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহযোগী, মোদি বিরোধী আন্দোলনের সহযোগী এবং এটা সুস্পষ্ট, ভারত থেকেই স্টেটমেন্ট আসতেছে। ভারতের মদদে আমাদের ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। এখানে কোনো আপস চলবে না। শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচার করতে হবে।
আরও পড়ুন: জাবি শিক্ষার্থীকে বস্ত্রহীন করে দেওয়ানো হলো ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ছড়ানো হলো ভিডিও
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য জি এ সাব্বির বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আজাদী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করে খুনি এই বাংলাদেশের প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে ভারতে চলে গেছে। এটা একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট প্রমাণ হয়ে গেছে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে ভারতের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায়। এখানে আর কোনো লুকোচুরির ব্যাপার নাই। এটা স্পষ্ট যে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য শত্রু। অথচ রাষ্ট্রযন্ত্রে অধিষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের মুখে শুনতে হয় যে তারা নাকি মমতার বক্তব্যকে গুরুত্বের সাথে দেখছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসনের সকলের কাছে জানতে চাই, আপনারা ওসমান হাদি হত্যার বিচার কবে করবেন? তারা যদি নির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে না পারে, হাদি হত্যা সংক্রান্ত যত ডকুমেন্ট, যত নথিপত্র আছে, এই সবকিছু নিয়ে আমরা শাহবাগে বসে যাব। এবং এই বিচার আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না।