রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনে ৪৫তম বিসিএস বৈষম্যের শিকার চাকরি প্রার্থীরা © টিডিসি
৪৫তম বিসিএস রিপিট ক্যাডার সংশোধন করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশসহ তিন দফা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ৪৫তম বিসিএস বৈষম্যের শিকার চাকরি প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় ৪৫তম বিসিএস চাকরি প্রার্থী মোসা. শারমিন বলেন, ‘আমরা ৪৫তম বিসিএসের বিশেষ প্রার্থীরা চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে আজ মানববন্ধনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি। ২০২২ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও বিসিএস কর্তৃপক্ষ একেক সময়ে একেক ধরনের আচরণ করছে। ৪০তম, ৪৩তম, ৪৪তম, ৪৫তম ও ৪৬তম বিসিএস—প্রতিটি বিসিএসেই আচরণ ও সিদ্ধান্তে স্পষ্ট বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৪০তম বিসিএসে বিদেশে নিয়োগসহ নানাভাবে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সবাই জানে। ৪৪তম বিসিএসে দুবার নয়, তিনবার সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি চার হাজারের বেশি নন-ক্যাডার পদে সুপারিশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ ৪৫তম বিসিএসের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। আমরা চাই না পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হোক। আমাদের শিক্ষকসুলভ দায়িত্ববোধ থেকে সিদ্ধান্ত নিন।’
এ সময় ৪৫তম বিসিএস চাকরি প্রার্থী একরামুল হক বলেন, ‘আমরা পিএসসি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেমিনার ও সভায় আমাদের বারবার বলা হয়েছিল, “৪৫তম বিসিএস থেকে কেউ খালি হাতে ফিরবে না।” এই আশ্বাসই আমাদের আশাবাদী করেছিল। কিন্তু নাটকীয়ভাবে ফলাফল প্রকাশের পর আমরা সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখতে পাই। আমাদের ক্ষেত্রে কোনো সম্পূরক ফলাফল দেওয়া হয়নি। উপরন্তু নন-ক্যাডার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে ৪৫৭টি পদ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অন্যায়। আমরা ন্যায্য অধিকারের আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, নির্বাচিত সরকার আমাদের এই ন্যায্য দাবিগুলোর বিষয়ে সুবিচার করবে এবং আমাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। অন্যথায়, এটিই হবে আমাদের সর্বশেষ শান্তিপূর্ণ অবস্থান।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিসিএসকে কেন্দ্র করে বারবার মেধাবীদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে—এটি একটি লজ্জাজনক বাস্তবতা। আমরা পরীক্ষা দিতে দিতে ক্লান্ত। আমরা প্রশাসনিক জটিলতার অবসান চাই। যেখানে ৪৪তম বিসিএসকে তিনবার সম্পূরক ফলাফল দেওয়া হয়, সেখানে ৪৫তম বিসিএসকে একবারও দেওয়া হচ্ছে না—এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিলেও আমাদের ক্ষেত্রে উল্টো পথে হাঁটা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ৪৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ কেন প্রত্যাহার করা হলো—এর জবাব পিএসসিকে দিতেই হবে। আমরা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানাই কিন্তু ৪৫তম বিসিএসে যে বৈষম্য হয়েছে, তা সংশোধনের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন।’
তাদের দাবিগুলো হলো ফলাফলের রিপিট/ত্রুটি সংশোধন করে ৪৫তম বিসিএসের ফলাফল পুনরায় প্রকাশ করতে হবে; পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রত্যাহারকৃত ৪৫৭টি পদ অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং যারা ইতোমধ্যে ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্ত, তাদের নন-ক্যাডারে সুপারিশ দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং নন-ক্যাডারে নতুন করে প্রকৃত বঞ্চিতদের জন্য সুপারিশ দিতে হবে।
একরামুল হক আরও বলেন, ‘এই তিনটি দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আমরা বাধ্য হয়ে পিএসসি ঘেরাও কর্মসূচি দিতে যাব। মেধাবীদের বিরুদ্ধে নয়, মেধাবীদের পক্ষে দাঁড়ান। ৪৫তম বিসিএসের বৈষম্য নিরসন করুন।’