সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান মারধরের ঘটনা © টিডিসি সম্পাদিত
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের চার সদস্য ক্লোজড করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই ঘটনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেছেন শিক্ষার্থীরা।
অপরদিকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এ ঘটনায় বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গতকাল অভিযানের আগে ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তারা আসতে দেরি করায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
‘‘তারা আসছে কিন্তু একটু মাঝামাঝি সময়ে। এর মধ্যে নাঈমের (ঢাবি ছাত্র) সাথে কথা কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের একটু বাড়াবাড়ির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা সময় ডিউটিতে থাকা চার পুলিশ সদস্যের ক্লোজড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
তিনি বলেন, পরবর্তীতে আগ থেকে থেকে তাদের (ঢাবি প্রশাসন) উপস্থিতি নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা নিয়মিতভাবে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে থাকি। নির্বাচন পরবর্তী একটু দেরিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ওই অভিযানটি ছিল পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ এখানে থাকার কথা না। সে অনুযায়ী, অভিযানের সময় আমাদের কেউ ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো অভিযান হলে সেখানে পুলিশের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ থাকেন।
তিনি আরও বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি আমাদের কয়েকজন ছাত্র এ ঘটনায় থানায় আটক ছিল তারপর। তখন আমি থানায় যোগাযোগ করে তাদের ছেড়ে দিতে বলেছি। পরবর্তীতে ছেড়ে দিয়েছে বলে জেনেছি।
‘অভিযানের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল’—পুলিশের এমন বক্তব্যে তিনি বলেন, সেটা কাকে বলছে পুলিশই ভালো জানে।
জানা যায়, গতকাল সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে দুই সাংবাদিক, শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীনসহ কয়েকজন দর্শনার্থী পুলিশের মারধরের শিকার হয়। ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন—বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তোফায়েল আহমেদ (২৫) এবং আজকের পত্রিকার কাউসার আহমেদ রিপন (২৭)।
পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল পুলিশ সদস্য তোফায়েলকে লাঠি দিয়ে নির্বিচারে পেটাচ্ছেন। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিসি মাসুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের একটু বাড়াবাড়ির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার সময় ডিউটিতে থাকা পুলিশের চার সদস্যের ক্লোজড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।