ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দলের স্পষ্ট সাংগঠনিক অবস্থানকে অবজ্ঞা করে’ ইউটিএলের সাথে নিজেদের সংযুক্ত করায় দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষককে।
গত সোমবার রাতে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
তবে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)-এর অভিযোগ ‘একটি অসত্য অজুহাতে’ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাদা দল।
গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হক গণমাধ্যমকে জানান,সাদা দলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটির নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন ও সাদা দলের সাথে সম্পর্ক নেই এমন সংগঠনের সাথে সম্পর্ক রাখার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি একটি অসত্য অজুহাত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও সাদা দল প্রকাশ্যে একটি রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের (ইউটিএল) কোন দলকে বা জোটকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাইনি। বরং বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্বশীলতা ও বিবেকের তাড়নায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং সংসদ নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।
‘এই আহ্বান কীভাবে সাদা দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হল, তা বোধগম্য নয় উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. যুবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হক প্রশ্ন তুলেন, তবে কি সাদা দল ‘হ্যাঁ’ ভোট ও ন্যায়-ইনসাফের বিপক্ষে?
তিনি বলেন, ইউটিএল সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এটি শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করে। এটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সাদা দলের কোন বৈপরীত্য বা সংঘর্ষ নেই।
এছাড়াও সাদা দলের বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাকস্বাধীনতা-ও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার হরণের যে লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।