দাবি পূরণের আশ্বাসে ভিসির বাসভবনের সামনে থেকে সরলেন রাবি শিক্ষার্থীরা
- রাবি প্রতিনিধি
- প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৫, ১০:১২ AM , আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৫, ১০:২২ AM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের আবাসিক হলে আসন বণ্টনে অনিয়ম, পানি সংকট, ইন্টারনেট সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাত ৯টা থেকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে পশ্চিমপাড়া আবাসিক হল থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এসে বসে পড়েন ছাত্রীরা।
সর্বশেষ রাত সোয়া ১১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব এসে তাদের দাবি মেনে নিলে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে হলে ফিরে যান।
আরও পড়ুন : বুটেক্স ভর্তি পরীক্ষা শুরু
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আবাসিকতার অনিয়ম, মানি না মানব না’, ‘সিনিয়র রেখে জুনিয়র, মানি না মানব না’, ‘প্রশাসন জবাব চাই জবাব চাই’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবাসিকতার নীতিমালায় সংকট, হলের সংকটে প্রাধ্যক্ষকে না পাওয়া, হলগুলোতে পানির সমস্যা স্থায়ী সমাধান না হওয়া, ক্যানটিনে পূর্ব নোটিশ ছাড়া সাহরির মিল বন্ধ হওয়া, ইন্টারনেটের ধীরগতি, শিক্ষার্থীরা সমস্যা সমাধানের দাবি জানালে ব্যক্তিগতভাবে হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্ন সংকটে ইফতারের পর থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নারী শিক্ষার্থীরা।
সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের সামনে হলের সংকটগুলো নিয়ে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রহমাতুনিসা, রোকেয়া ও খালেদা জিয়া হলের গণরুমে শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। এ সময় তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে উপস্থিত হন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান।
তবে তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেলেও সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। পরে তারা রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের ফটকে অবস্থান নেন। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আলোচনা করে সমাধান না পেয়ে রেজিস্ট্রার ইফতিখারুল আলম মাসউদ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন।
আরও পড়ুন : চাবি আনতে যাওয়া গোবিপ্রবি ছাত্রীকে স্পর্শ, বাড়ির মালিক আটক
এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাইসা আক্তার বলেন, আবাসিকতার নীতিমালায় সংকট, হলের সংকটে প্রাধ্যক্ষকে না পাওয়া, হলগুলোতে পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ইফতারের পর থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নারী শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আসন বণ্টন করতে হবে।
এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব সাংবাদিকদের বলেন, তাদের দাবি ছিল হলে যে আসন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে সেশনটাকে গুরুত্ব দিয়ে আসন বরাদ্দ দেওয়া। আসন বরাদ্দ বা সবকিছু শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই করা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থী যদি মনে করে সেশনটাকে গুরুত্ব দিয়ে আসন বরাদ্দ দেওয়া হোক, তাহলে সেটা চিন্তা করা যেতে পারে। আমি প্রভোস্ট কাউন্সিলের সঙ্গে বসে এই সেশনটাকে নিয়ে, মেধার ভিত্তিতে সেখানে ইয়ারের পরিবর্তে সেশনটাকে ধরে আসন বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করব।