© সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। আজ শনিবার উপাচার্য ভবন লনে সর্বোচ্চ সিজিপিএধারী শিক্ষার্থীদের জন্য এক চা চক্র আয়োজনের মাধ্যমে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে তাঁদের অর্জনের এক বিশেষ স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি একজন আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ হিসেবে আগামীর পথচলায় বাড়তি অনুপ্রেরণা ও স্পৃহা প্রদানের লক্ষ্য নিয়েই এই চা চক্রের আয়োজন করেছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।
জানা গেছে, কলা অনুষদ থেকে ৩৯ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ৩৩ জন, বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিজ ও আইন অনুষদ থেকৈ ৩৪ জন করে, জীববিজ্ঞান, ফার্মেসি ও আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদ থেকে ৪১ জন, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ও চারুকলা অনুষদের ২৫ জন এবং ইনস্টিটিউটসমূহের ২৮ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ২০০ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এসব কৃতী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে।
নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে পালি এণ্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী পিয়া দাস দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শীতের এই সুন্দর বিকেলে এমন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে উপস্থিত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। এতো সুন্দর আয়োজনের জন্য প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই ঢাবি উপাচার্য স্যারকে, সেই সাথে আমার ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান মহাদয়কেও, যারা আমার পথচলায় সবসময় পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে ভালো ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ আজকের এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি সত্যিই অনেক কৃতজ্ঞ। আমার ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ আমার একাডেমিক পথচলাকে ত্বরান্বিত করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়া, অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমেরিটাস অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন।
এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক ড. সামসাদ মর্তূজা অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।
শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে প্রবীণ ইমেরিটাস অধ্যাপকদের নির্দেশনা, পরামর্শ ও মতামত নিয়েই দেশের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার প্রতি তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে সফলতার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান বৃদ্ধিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মাস্টার প্লান বাস্তবায়সহ সকল ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও অর্জনকে স্বীকৃতি দিতেই এই মিলনমেলার আয়োজন। এখান থেকে তারা কর্মজীবনে আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করবে। এই মিলন মেলায় প্রবীণ শিক্ষক ও তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে মিথস্ক্রিয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা নতুন জ্ঞান সৃষ্টির অনুপ্রেরণা পাবে। সৃজনশীল জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ধারণ করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখার জন্য উপাচার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।