আকাশ বিশ্বাসকে নিয়ে যাচ্ছেন তার মামা © সংগৃহীত
আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে এককভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীকে ‘মানসিক সমস্যাগ্রস্ত’ উল্লেখ করে আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।
আজ শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আকাশ বিশ্বাসের মামা ‘তার বাবা অসুস্থ’ বলে তাকে বাসায় নিয়ে যান। আকাশ বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জগন্নাথ হলের অনাবাসিক শিক্ষার্থী।
এর আগে আজ বিকাল ৪টা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন তিনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছিলেন ওই শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে ঢাবিতে শিক্ষার্থীর একক অবস্থান কর্মসূচি
তার চার দফা দাবিগুলো হলো- একদলীয় সরকারের অধীনে ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করে নির্দলীয় সরকার গঠন করতে হবে ও সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে; জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চালু করতে হবে; গুম, খুন, নির্যাতনের বিচার করতে হবে ও শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দিতে হবে। সকল নাগরিকের নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে; রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকোচন বন্ধ করতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে আকাশ বিশ্বাসের মামা বলেন, আকাশ বেশ কিছুদিন থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তার নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। আজকে আমি হঠাৎ করেই জানতে পারি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। পরে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চাইলে সে আসতে না চাইলে ‘তার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়েছে’ বলে তাকে বাসায় নেওয়ার ব্যবস্থা করি।
এ বিষয়ে জগন্নাথ হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা বলেন, ছেলেটা হলের অনাবাসিক শিক্ষার্থী। সে হলেও না থেকে তার ডাক্তার মামার সঙ্গে ঢাকায় একটি বাসা নিয়ে থাকে। আমি যখন জানতে পারি ছেলেটা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেছে তখন আমি তার বাবার নাম্বার জোগাড় করে ফোন দিলে তিনি বলেন, তার ছেলে কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। পরে রাত ৯টার দিকে তার মামা এসে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।