গুগল ম্যাপে ঢাবির হল ও লর্ড রবার্ট ক্লাইভ © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্যার পি জে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে লর্ড রবার্ট ক্লাইভ ইন্টারন্যাশনাল হল। তবে বাস্তবে এ ধরণের কোন নামকরণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গুগল ম্যাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আন্তর্জাতিক হলের নাম দেখানো হচ্ছে এই উপমহাদেশের ঘৃণিত চরিত্রের নামে। আজ মঙ্গলবার গুগল ম্যাপে গিয়ে এমনটা দেখা যাচ্ছে।
লর্ড রবার্ট ক্লাইভ ইন্টারন্যাশনাল হলের নাম লিখে গুগল ম্যাপে সার্চ করা হলে সরাসরি স্যার পি জে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলে চলে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি এই হলের ক্যান্টিন এবং সেলুন ব্যবহার অন্য হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই কারণে শিক্ষার্থীরা গুগলে নাম পরিবর্তন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে উপমহাদেশের ঘৃণিত চরিত্রের নামে এই হলের নামকরণ দিয়েছেন তারা।
জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীরা থাকে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আমন্ত্রণে অতিথিরা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক শিক্ষক থাকে। বিশেষায়িত হল হওয়ায় অন্য হলে শিক্ষার্থীরা কম যায়। কিন্তু এই হলের ক্যান্টিন এবং সেলুন আধুনিক হওয়ায় কিছু শিক্ষার্থী সেখানে যায়।
যদিও হল প্রশাসনের দাবি বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে হল প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নেয়।
জানতে চাইলে স্যার পি জে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, হলের নামকরণ এরকম করা হয়নি কিংবা গুগল ম্যাপেও বিষয়টি তার চোখে পড়েনি।
ক্যান্টিন এবং সেলুন ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, পূর্বে দায়িত্ব পালন করা প্রভোস্ট অন্য হলের শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ করেছেন। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর হাউজ টিউটরদের সাথে বৈঠক করেছি এ বিষয়ে। সেখানে বাহির থেকে আসা কিছু শিক্ষার্থী ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন শিক্ষকরা দাড়িয়ে থাকতে হয়। তাছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা দায়িত্ব দেখতে হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে আবার বসবো।
প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার পি জে হার্টগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ বা পি জে হার্টগ। চার হাজার টাকা বেতন ও বাসভবন-সুবিধা নিয়ে ১৯২০ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি যোগ দেন কলকাতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প অফিসে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী লেডি ম্যাবেল হেলেন হার্টগ ও দুই শিশুপুত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রশাসনিক দক্ষতার কথা বিবেচনায় নিয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগকে।
স্যার পি জে হার্টগ পাঁচ বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি ঢাকা ছাড়েন। ১৯৪৭ সালের ২৭ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। তবে, আমৃত্যু তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চিঠিপত্রে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছিলেন।
কে এই লর্ড রবার্ট ক্লাইভ
যার সঙ্গে সমৃদ্ধ বাংলার পতন আর অনুপ্রবেশকারী ব্রিটিশের উত্থানের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। পলাশীর ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে যার নাম উচ্চারিত হয়। তিনি হচ্ছেন লর্ড রবার্ট ক্লাইভ। এরপরই এ উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন রবার্ট ক্লাইভ। ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভ একটি ঘৃণিত চরিত্র।