ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে নীতিমালা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতি

৩০ মে ২০২৩, ১০:৩২ PM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩০ PM

© লোগো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গবেষণা ও প্রকাশনায় স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘চৌর্যবৃত্তি (Plagiarism)’ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের নিয়মিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

এ নীতিমালায় গবেষণা নকল বা সামঞ্জস্যের মাত্রা অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ দেওয়া সাপেক্ষে জরিমানা, ডিগ্রি বাতিল ও পদাবনতি, এমনকি চাকরিচ্যুতিসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পরে রাতে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। 

তিনি বলেন, একাডেমির কাউন্সিলে যেটা চূড়ান্ত হয়েছিল, সেটার টুকটাক সংশোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশের এধরনের সিদ্ধান্ত এটাই প্রথম। ‘চৌর্যবৃত্তি’ নীতিমালা সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতি, ডিগ্রি বাতিল, অনেক বছর কাজ থেকে বিরত রাখা ও জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আমরা ভালো একটা রেগুলেশন করেছি। এটা নির্ধারিত স্থানে যাবে। তারপর আমরা পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত জানাব।

এর আগে গত জানুয়ারিতে ‘দ্য রুলস ফর দ্য প্রিভেনশন অব প্লেজারিজম’ শীর্ষক নীতিমালাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদের (একাডেমিক কাউন্সিল) সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেটি ডিনস কমিটির মিটিংয়ে উত্থাপন করে পরবর্তী আজ সিন্ডিকেটের সভায় চূড়ান্ত করা হয়ে।

‘দ্য রুলস ফর দ্য প্রিভেনশন অব প্লেজারিজম’ শীর্ষক নীতিমালা অনুযায়ী, উদ্ধৃতি বা সূত্র ছাড়া কোনো গবেষণা বা লেখার সঙ্গে অন্য কারও তথ্য-উপাত্ত, ধারণা, লেখা বা কাজের সামঞ্জস্য চৌর্যবৃত্তি হিসেবে গণ্য হবে।

এতে গবেষণায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত সামঞ্জস্যকে ‘গ্রহণযোগ্য’ (লেভেল-০) বলা হয়েছে৷ এ ক্ষেত্রে কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে একক উৎস থেকে সর্বোচ্চ ২ শতাংশের বেশি তথ্য ব্যবহার করা যাবে না।

একই উৎস বা সূত্র থেকে ২ শতাংশের বেশি তথ্য ব্যবহার করা হলে তা নিম্নমাত্রার সামঞ্জস্যের (লেভেল-১) আওতায় পড়বে। অন্যের লেখার সঙ্গে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মিলও এই লেভেলে রাখা হয়েছে।

৪০-৬০ শতাংশ হবে মধ্যমাত্রা (লেভেল-২), আর ৬০ শতাংশের বেশি সামঞ্জস্য উচ্চমাত্রার (লেভেল-৩) অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে । উচ্চমাত্রার অপরাধের পুনরাবৃত্তি হবে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ।

নীতিমালা অনুযায়ী, লেভেল-১ এর অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা ক্রেডিট ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে লেখক বা গবেষককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া সাপেক্ষে পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ওই সময়েও সংশোধনে ব্যর্থ হলে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া সাপেক্ষে তাদের আরও ৬ মাস সময় দেওয়া হতে পারে।

দ্বিতীয় পর্যায়েও সংশোধনে ব্যর্থ হলে লেখক বা গবেষকের ওই ডিগ্রি বা কোর্স বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে। এই অপরাধে দায়ী ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা গবেষক হলে এবং তিনি নকল ডিগ্রির মাধ্যমে নিয়োগ-পদোন্নতি বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ে পাওয়া সব টাকা অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে ফেরত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তার সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে ৬ মাসের মধ্যে পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।

এই সময়ের মধ্যে ডিগ্রি চৌর্যবৃত্তিমুক্ত প্রমাণ করতে পারলে তা নবায়ন হবে। তবে ওই ব্যক্তি অন্য কোনো সুবিধা পাবেন না। কিন্তু ওই ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে পাণ্ডুলিপি সংশোধনে ব্যর্থ হলে পদাবনতি ও দুই বছরের জন্য পদোন্নতি বন্ধের শাস্তি পাবেন।

লেভেল-২ এর অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি ২০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে পাণ্ডুলিপি সংশোধনে ১ বছর সময় পাবেন। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা ক্রেডিট স্থগিত থাকবে। ওই সময়ে পাণ্ডুলিপি সংশোধনে ব্যর্থ হলে আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে আরও ৬ মাস সময় দেওয়া হবে। পুরো সময় পর ওই ডিগ্রি বা কোর্সটি বাতিল করা হবে।

অপরাধী ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা বা গবেষক হলে এবং তিনি নকল ডিগ্রির মাধ্যমে নিয়োগ-পদোন্নতি বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ে পাওয়া সব টাকা অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে ফেরত নেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বাতিলের পাশাপাশি এক ধাপ পদাবনতি ও চার বছরের জন্য পদোন্নতি বন্ধের শাস্তি হবে তার।

লেভেল-৩-এর অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা কোর্স ২ বছরের জন্য স্থগিত করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে সংশোধনে ব্যর্থ হলে ওই ডিগ্রি বাতিল ও কোর্সটি অনুত্তীর্ণ (এফ গ্রেড) বলে গণ্য হবে।

অপরাধী ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা বা গবেষক হলে এবং তিনি নকল ডিগ্রির মাধ্যমে নিয়োগ-পদোন্নতি বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ে পাওয়া সব টাকা অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে ফেরত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বাতিলের পাশাপাশি এক ধাপ পদাবনতি ও ছয় বছরের জন্য পদোন্নতি বন্ধের শাস্তি হবে তার। কোনো ব্যক্তি লেভেল-৩-এর অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হবে।

চৌর্যবৃত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা কোর্সের তত্ত্বাবধায়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জার্নালের ক্ষেত্রে সম্পাদনা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তির বিধান আছে নতুন এই নীতিমালায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউটের পরিচালক বরাবর যে কোনো ব্যক্তি লিখিতভাবে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির বিষয়ে অভিযোগ করতে পারবেন।

উপাচার্য সিন্ডিকেটের সভায় ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি ও তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। চৌর্যবৃত্তি রোধে গবেষণায় উদ্ধৃতির ব্যবহার, চৌর্যবৃত্তি শনাক্তের সফটওয়্যার ও টুলসের ব্যবহার প্রভৃতি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা বা উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়।

ইসলামী ব্যাংক থেকে মোটরসাইকেল পেলেন আরও দুজন
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
সরকারি প্রজ্ঞাপনে নিজের নাম বসিয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতা…
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে আহত ৬ হাজার
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বিষয়ভিত্তিক র‍্যাঙ্কিংয়ে এনএসইউ…
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
পুলিশের হাতে রাহুলের পানিতে ডোবার ফুটেজ, যা বলছেন এসপি
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
মাঠ চাইলেন সাবিনা, প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘অলমোস্ট ডান’
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence