জিএসটি গুচ্ছে এবার ২৪ বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় উচ্চশিক্ষার ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। এরই মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্তের পর মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ অবস্থায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত করতে আগামী ৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে বৈঠকে বসছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ইউজিসি সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।
ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ নভেম্বর ইউজিসিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি নিয়ে সভা রয়েছে। সেখানে উপাচার্যদের ডাকা হয়েছে। গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গেও পৃথক সভা হওয়ার কথা রয়েছে।
সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত দেশের ২৪টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার কো-কনভেনর ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর ইউজিসিতে উপাচার্যদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে ইউজিসি ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
জিএসটি গুচ্ছে এবার ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়
সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে। বিদ্যমান ২০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নতুন করে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে এবার ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জিএসটি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের জিএসটি গুচ্ছের কো-কনভেনর ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এবার আরও চারটি বিশ্ববিদ্যালয় জিএসটি গুচ্ছে যুক্ত হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসি কর্তৃক বিষয় ও শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন পেয়ে থাকলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত তারা গুচ্ছেই থাকছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে উপাচার্যদের একটি সভায় সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ৯ নভেম্বর উপাচার্যদের আরেকটি সভায় ভর্তি আবেদনসহ জিএসটি গুচ্ছের অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
নতুন যুক্ত হওয়া বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরাত-ই-খুদা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, গুচ্ছভুক্তির বিষয়ে ইতোমধ্যে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় সভায় নতুন করে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় ইতিবাচক ফল পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির নয়টি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে ইউজিসির বিশেষজ্ঞ দল। বিষয়গুলো হলো—কম্পিউটার সায়েন্স, অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স, রোবোটিক্স, এগ্রিকালচার, ডিভিএম, ফিনটেক, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি এবং ইংরেজি। প্রতিটি বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ৪০টি করে আসন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে একসঙ্গে নয়টি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর পরিকল্পনা নেই বিশ্ববিদ্যালয়টির। তিন ধাপে তিনটি, তিনটি ও চারটি অথবা চারটি, তিনটি ও তিনটি বিষয়ে ভর্তি কার্যক্রম চালুর চিন্তা রয়েছে। বর্তমান অবকাঠামোগত সক্ষমতা বিবেচনায় প্রথম ধাপে তিন থেকে চারটি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো সম্ভব বলে মনে করছেন উপাচার্য।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি একাডেমিক ভবন নেওয়া হয়েছে। সেখানে কম্পিউটার ল্যাবসহ পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিটিটিআইয়ের একটি ভবন পাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ভবনটি পাওয়া গেলে অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরও বাড়বে।
উপাচার্য আরও জানান, গত ১২ অক্টোবর ইউজিসির দুই সদস্য, কয়েকজন কর্মকর্তা এবং নয়টি বিষয়ের জন্য নয়জন বিশেষজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। বিশেষজ্ঞদের ২০ অক্টোবরের মধ্যে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পূজার ছুটি এবং ইউজিসির একজন সদস্যের বিদেশ সফরের কারণে প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছে। গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট সদস্যের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর ইউজিসির সভার পর গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিন ইতিবাচক ফল পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টি গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আবেদনও করা হয়েছে। গত শুক্রবার ইউজিসির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদল প্রতিবেদন জমা দিলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার্থী ভর্তির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয় দুটি হলো—কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ও ইংরেজি। প্রতিটি বিষয়ে ৪০টি করে মোট ৮০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির আপাতত কোনো সংকট নেই। ইতোমধ্যে আটতলা একটি ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তার ভাষ্য, বর্তমান পর্যায়ে দুটি বিষয়ে ভর্তির পরিকল্পনা করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির আরও বেশি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সক্ষমতা রয়েছে।
অকৃতকার্যদের পুনঃপরীক্ষা, পেছাচ্ছে মেডিকেল ভর্তি
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলাফলের পর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ পরিস্থিতিতে গত ৪ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সভায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও (বুয়েট) নির্ধারিত সময়েই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে এখনো ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বরের বৈঠকে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে।