ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় দু’বার সফল হয়েছি যেভাবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা  © ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (৬ মে)। আগে এটি ‘খ’ ইউনিট হিসেবে পরিচিত ছিল। নতুন নামে ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আসনবিন্যাস প্রকাশ করেছে ভর্তি কমিটি। কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে আসন সংখ্যা ২ হাজার ৯৩৪টি। 

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯০৮টি, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের যথাক্রমে জন্য ১ হাজার ৭৪৪টি ও ২৮২টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। আসনপ্রতি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪২ জন। সে হিসেবে প্রতিযোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের সময় অবশ্য এ সংখ্যা আরও কম ছিল। যতদূর মনে পড়ে, ১৫-১৬ জন প্রতিযোগী ছিল আসনপ্রতি।

আমাদের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ছিল। অবশ্য প্রথমবারেই চান্স হয়েছিল। মেধাক্রম ছিল দেড় হাজারের আশেপাশে। বিভাগ পেয়েছিলাম কলা অনুষদে। পরেরবার আরেকটু ভালো বিভাগ পাওয়ার জন্য আবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিই। 

মজার বিষয় হলো দ্বিতীয়বারও মেধাক্রম ছিল প্রায় একই। আগেরবার ২৯ থেকে দ্বিতীয়বার ২২ এ আসে। পার্থক্য ছিল মাত্র সাত ধাপ। অবশ্য এবার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিষয় পেয়েছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত আগের বিষয়টিতেই থেকে গেছি। এক বছর লস করার পথে পা বাড়াইনি।

যাইহোক, এবার মূল কথায় আসি। ভর্তি পরীক্ষার জন্য আমার প্রস্তুতি তেমন ভালো ছিল না। তবে এইচএসসি পরীক্ষার পর নিয়মিত কোচিং এবং প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা পড়ার চেষ্টা করেছি। কোচিংয়ের পরীক্ষার ফলাফলও তেমন ভালো ছিল না। এ কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার মতো আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয়নি।

তবে এ সময়ের মধ্যে নিজের মধ্যে অজান্তেই একটা বিষয় তৈরি হয়েছিল। তা হলো নির্ভার থাকা। নিজের মধ্যে কোনও প্রেসার ছিল না। চান্স পেতেই হবে, এমন মানসিকাও ছিল না। ফলে চাপমুক্ত থেকেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। এটিই শেষ পর্যন্ত সাফল্যের কারণ হিসেবে ধরা দিয়েছে।

পরীক্ষার হলে গিয়ে কীভাবে কীভাবে যেন কোনও টেনশন কাজ করেনি। ফলে প্রশ্নগুলো ভালোভাবে বুঝে পরীক্ষা দিতে পেরেছি। দ্বিতীয়বারও চাপমুক্ত থেকে পরীক্ষা দিয়ে সাফল্য পেয়েছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো হাতে অপশন অনেক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতেই হবে, এমন মনোভাবও ছিল না। এটিই আমাকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পথ খুলে দিয়েছে।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ভর্তি পরীক্ষাসহ নানান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকটিতে আবেদন চলছে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। পছন্দের শীর্ষে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলমান। তিনটি গুচ্ছ ছাড়াও শীর্ষস্থানীয় চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। এ জন্য ছোট কোনও ভুলও স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে পারে। তবে ভালো প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্ভার, আত্মবিশ্বাসী ও চাপমুক্ত হয়ে যদি পরীক্ষা দেওয়া যায়, তাহলে সাফল্য ধরা দিতে বাধ্য। সবার জন্য শুভ কামনা।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।