কারিগরিতে ১১তম, স্কুলে ১০ম

একই প্রশ্নে পরীক্ষা হলেও ভিন্ন গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন কারিগরির কৃষি শিক্ষকরা, বৈষম্যের অভিযোগ

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৩ PM , আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৮ PM
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ © ফাইল

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারিগরি জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বেতন গ্রেডের অসঙ্গতি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কৃষি ডিপ্লোমা সনদধারী সহকারী শিক্ষকরা। একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েও কারিগরি শাখায় ১১তম গ্রেড এবং স্কুলে ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করায় নিজেদের সঙ্গে ‘দ্বৈতনীতি’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় কৃষি বিষয়ে ডিপ্লোমা ও বিএসসি (কৃষি) ডিগ্রিধারীরা একই প্রশ্নপত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরবর্তীতে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন তারা। তবে যোগদানের কয়েক মাস পর এমপিও শিটে দেখা যায়, কৃষি ডিপ্লোমাধারী সহকারী শিক্ষকদের কারিগরি শাখায় ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন কৃষি ডিপ্লোমাধারী সহকারী শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে বেতন পেলেও কারিগরি শাখায় তাদের জন্য ১১তম গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এমনকি কৃষি ডিপ্লোমা সনদধারী ট্রেড ইনস্ট্রাক্টররাও ১০ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন।

২০১৮ সালের কারিগরি ও মাদ্রাসা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার পরিশিষ্ট ঘ-এর ৯ নম্বরে কৃষি ডিপ্লোমা এবং বিএসসি (কৃষি) উভয়ের জন্য ১০ম গ্রেড উল্লেখ থাকলেও ২০২০ সালের সংশোধিত নীতিমালায় কৃষি ডিপ্লোমাধারীদের ১১তম গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিপত্রে কৃষি বিষয়কে টেকনিক্যাল হিসেবে উল্লেখ করে বিএড বাধ্যবাধকতা বাতিল করে ১০ম গ্রেড বহাল রাখা হলেও কারিগরি শাখায় তা কার্যকর হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলছেন, ডিপ্লোমাধারীদের জন্য বিএড করার সুযোগ না থাকায় চাকরি জীবনে উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও তারা বঞ্চিত হবেন। এমপিওভুক্ত একজন সহকারী শিক্ষক সাধারণত দুইটি উচ্চতর স্কেল পান। বিএড ডিগ্রিধারীরা প্রমোশন পেয়ে ৮ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পেলেও কৃষি ডিপ্লোমাধারী সহকারী শিক্ষকরা সর্বোচ্চ ৯ম গ্রেডে উন্নীত হতে পারবেন। ফলে চাকরি জীবনের পুরো সময়জুড়েই একটি গ্রেড বৈষম্য বহন করতে হবে তাদের।

এতে প্রতি মাসে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা বেতনের পার্থক্য ছাড়াও উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া, অবসরকালীন সুবিধাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় বৈষম্যের শিকার হতে হবে বলে দাবি করেন তারা।

তমা নামে এক শিক্ষক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা এনটিআরসিএ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেছি। তারা এমপিও নীতিমালার দোহাই দিচ্ছেন। স্কু-কলেজের এমপিও নীতিমালায় কৃষি ডিপ্লোমাধারীদের ১০ম গ্রেড দেওয়া হলেও আমরা কেন পাব না। এছাড়া আমরা পরীক্ষা দিয়েছি একই প্রশ্নপত্রে। অনেকের চেয়ে আমরা ভালো নম্বর পেয়েছি। অথচ আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। এ বৈষম্য দূর হওয়া দরকার।’

মাহমুদুল হাসান নামে আরেক শিক্ষক বলেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬ সালের নতুন নীতিমালার খসড়ায় কৃষি ডিপ্লোমা সনদধারীদের পাশাপাশি বিএসসি (কৃষি) ডিগ্রিধারীদেরও ১১তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আমরা ২০২৫ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী ১০ম গ্রেডে বেতন চাই।’

তিনি আরও বলেন, নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে মাউশির ন্যায় কারিগরি শাখায়ও কৃষি ডিপ্লোমা ও বিএসসি (কৃষি) সনদধারী সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতনদিতে হবে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন গ্রেড সংশোধনের সুযোগ রাখার দাবিও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মাউশি অধিভুক্ত কৃষি ডিপ্লোমার শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে বেতন পেলে কারিগরি শিক্ষকরাও পাবে। এখানে বৈষম্য করার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিতে হবে। যদি এমন কোনো বৈষম্য থেকে থাকে তাহলে তা দূর করতে কাজ করা হবে।’

প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অভিজ্ঞতা ১২ বছর চায় মাধ্যমিক শিক্ষক স…
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
আজ ফের বসছে সংসদ অধিবেশন, থাকছে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্য…
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
ভিসা সুবিধা পেতে ডাকাতির নাটক, যুক্তরাষ্ট্রে ১১ ভারতীয় গ্রে…
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
দুপুরে মধ্যে ৪ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
ট্রেনে ঈদ যাত্রা : আজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ মার্চের ফিরতি টিকিট
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
শাহ পরীর দ্বীপের স্বপ্নের সড়ক এখন মৃত্যুকূপ
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
22 April, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081