কারিগরির সনদ জালিয়াতি, আরও ২ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩২ PM , আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৫, ১২:১৪ PM

© ফাইল ছবি

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আরও দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা জবানবন্দি দেন।

দুই আসামি হলেন মাকসুদুর রহমান মামুন ও সরদার গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তাফিজুর রহমান। তারা দুই জনই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট এটিএম শামসুজ্জামানের সহযোগী। হিলফুল ফুজুল নামে কারিগরি প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল সরদার গোলাম মোস্তফা ও যাত্রাবাড়ীর ঢাকা পলিটেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক মাকসুদুর রহমান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এরপর তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ আসামি মাকসুদুর রহমান মামুনের এবং আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম আসামি সরদার গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তাফিজুর রহমানের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন। এরপর তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আদালতের মিরপুর মডেল থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক জালাল উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগের দিন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর খানের স্ত্রী শেহেলা পারভীনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর আগে গত শনিবার শেহেলা পারভীনকে আটক করা হয়।

কারিগরি বোর্ডের সনদ বাণিজ্য মামলার প্রধান আসামি এ টি এম শামসুজ্জামান এবং সহযোগী আসামি সানজিদা আক্তার ওরফে কলি গত ৭ এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট শামসুজ্জামান, সাবেক কর্মচারী ও বর্তমানে শামসুজ্জামানের সনদ তৈরির নিজস্ব কারখানায় নিয়োজিত কম্পিউটারম্যান ফয়সাল হোসেন, গড়াই সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিচালক সানজিদা আক্তার ওরফে কলিকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের একাধিক দল গত ১ এপ্রিল ভোররাত থেকে নজরদারিতে রেখে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুরের দক্ষিণ ও মধ্য পীরেরবাগ এবং আগারগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট একেএম শামসুজ্জামান এবং তার সহযোগী ফয়সাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

এ সময় কাছাকাছি দুটি বাসায় তাদের হেফাজত থেকে একাধিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে চুরি করে নেওয়া হাজার হাজার অরিজিনাল সার্টিফিকেট এবং মার্কশিটের ব্লাঙ্ক কপি, তৈরি করা শতাধিক সনদ এবং ট্রান্সক্রিপ্ট, বায়োডাটা ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধার করা হয়। এসব কম্পিউটার প্রিন্টার ল্যাপটপ দিয়ে গত কয়েক বছরে পাঁচ হাজারের বেশি আসল সনদ, মার্কশিট বানিয়ে ভুয়া লোকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

নকল সার্টিফিকেটও ওয়েবসাইটে দেখা যেত। এছাড়া সরকারি ওয়েবসাইটে, সরকারি পাসওয়ার্ড, অথরাইজেশন ব্যবহার করে ভুয়া লোকদের কাছে বিক্রি করা সনদগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যেকোনো দেশে বসে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বরগুলোকে সার্চ করলে সার্টিফিকেটগুলো সঠিক বলে প্রমাণিত হবে। এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ বাদী হয়ে ১ এপ্রিল মিরপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

চরফ্যাশনে পুকুরে ভাসমান অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশে কোন পে স্কেলে কত শতাংশ বেতন বেড়েছিল
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়কে ঝরল কলেজছাত্রের প্রাণ
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
‎রুয়েট শিক্ষার্থীদের হেনস্থার অভিযোগে আরপি স্পেশাল বাস আটকে…
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
যে ৩০ সংকেত দেখলে বুঝবেন আপনারও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ চে…
  • ৩১ জুলাই ২০২৬