মাসিনু মারমা © সংগৃহীত
খাগড়াছড়ির পানছড়ির প্রত্যন্ত কংচাইরীপাড়া থেকে উঠে আসা মাসিনু মারমা। চার বোনের মধ্যে সবার ছোট। ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ার। বান্ধবীদের সঙ্গে এলাকায় ফুটবল খেলতেন। পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে এইচএসসি পাসের পরপরই জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশ আনসার বাহিনীতে যোগ দেন। এরপর বদলে যায় তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের গল্প।
আনসার বাহিনীতে ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে মোহাম্মদ জানে আলমের পৃষ্ঠপোষকতায় জুডোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে জুডোই হয়ে ওঠে তাঁর প্রধান খেলার ক্ষেত্র। পাশাপাশি রেসলিং ও কারাতেতেও চর্চা চালিয়ে যান। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জুডো ক্যারিয়ারে অর্জন করেছেন প্রায় ২১টি পদক। এর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ১৬টি, জাপান এম্বাসি আয়োজিত প্রতিযোগিতায় দুটি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি পদক রয়েছে। তাঁর অর্জনের তালিকায় আছে ১০টি স্বর্ণ, ছয়টি রৌপ্য ও তিনটি ব্রোঞ্জ পদক এবং একটি অংশগ্রহণমূলক স্বীকৃতি। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে পঞ্চম স্থানও অর্জন করেছেন।
রেসলিংয়েও সাফল্য কম নয়। ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন ২০টি স্বর্ণপদক। ২০২৫ সালে খাগড়াছড়ি বলী সংগঠনের আয়োজনে মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে খেলাধুলার ক্যাটাগরিতে অর্জন করেছেন রাষ্ট্রপতি পদক।
খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করার পর উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে ফিজিক্যাল এডুকেশন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর ব্যাটালিয়ন আনসারে সিপাহী পদে কর্মরত আছেন।
জুডোতে বর্তমানে তাঁর ব্ল্যাক বেল্ট ২য় ড্যান। সম্প্রতি ৩য় ড্যানের পরীক্ষাও দিয়েছেন। খেলোয়াড়ের পাশাপাশি তিনি জুডো রেফারি ও কোচ হিসেবেও নিজেকে তৈরি করছেন। শেখ কামাল দ্বিতীয় বাংলাদেশ যুব গেমস-২০২৩ এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় গেমস-২০২৬-এ মহিলা জুডো রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতে ভালো একজন কোচ হওয়ার স্বপ্নও তাঁর।
মাসিনু মারমার সংগ্রাম, সাফল্য, জুডো-রেসলিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস এর খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাকের সঙ্গে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার জুডো ক্যারিয়ারের শুরুটা কীভাবে? ছোটবেলার স্বপ্ন কি জুডো খেলোয়াড় হওয়া ছিল?
মাসিনু মারমা: ছোটবেলায় আমার ফুটবল খেলার প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল। এলাকার বান্ধবীদের সঙ্গে ফুটবল খেলতাম। আমার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ক্যহলাচাই চৌধুরী আমাকে হাতে-কলমে ফুটবল খেলা শিখিয়েছেন। পরে আনসারের ফুটবল কোচ সুইহলামং মারমা আমাদের আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে নিয়ে গিয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ দেন।
এইচএসসি পাস করার পর পারিবারিক আর্থিক সংকট ও পরিস্থিতির কারণে আমাকে আনসার বাহিনীতে চাকরিতে যোগ দিতে হয়। সেখানে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিলেও পরবর্তীতে মোহাম্মদ জানে আলম কোচের পৃষ্ঠপোষকতায় জুডোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে জুডো খেলায় মনোযোগী হয়ে উঠি। পাশাপাশি রেসলিং ও কারাতেও চর্চা করেছি।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: ফুটবল থেকে জুডোতে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে ছিলেন?
মাসিনু মারমা: জুডোতে আসার ক্ষেত্রে আমার প্রথম কোচ মোহাম্মদ জানে আলমের অবদান অনেক বেশি। আর রেসলিংয়ে আমাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন প্রয়াত মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর স্যার। তিনি এক বছরেরও বেশি সময় আগে মারা গেছেন। তাঁদের অবদান আমি সবসময় মনে রাখি।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: প্রথমবার জুডোর পোশাক পরে ম্যাটে নামার অনুভূতিটা কেমন ছিল?
মাসিনু মারমা: শুরুতে অনেক নতুন মনে হয়েছিল। ধীরে ধীরে অনুশীলনের মাধ্যমে জুডোর প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা তৈরি হয়। এরপর যত সময় গেছে, ততই খেলাটার প্রতি মগ্ন হয়ে পড়েছি।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: একজন পেশাদার জুডোকা হিসেবে আপনার দৈনিক অনুশীলন ও প্রস্তুতি কেমন?
মাসিনু মারমা: খেলোয়াড় হিসেবে নিয়মিত অনুশীলন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুডোতে ভালো পারফরম্যান্সের জন্য ভালো মানের কোচ ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। দেশের বাইরে গিয়ে আরও ভালো প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং নতুন নতুন কৌশল রপ্ত করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: জুডোর মতো খেলায় খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মাসিনু মারমা: খেলোয়াড়দের জন্য ডায়েট ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শরীরকে ফিট রাখতে খাবার ও জীবনযাপনে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে প্রতিযোগিতার আগে ওজন ঠিক রাখা এবং শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকা খুব জরুরি।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: জুডোতে আপনার প্রিয় কৌশল বা টেকনিক কোনটি?
মাসিনু মারমা: জুডোতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল রয়েছে। প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতি বুঝে কৌশল প্রয়োগ করতে হয়। তবে ভালো পারফরম্যান্সের জন্য নিয়মিত অনুশীলন এবং সঠিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলে আপনার কৌশল কী থাকে?
মাসিনু মারমা: প্রতিপক্ষকে বুঝে খেলতে হয়। তাদের শক্তি, দুর্বলতা ও খেলার ধরন বুঝে কৌশল ঠিক করতে হয়। এজন্য অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ খুব গুরুত্বপূর্ণ।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বড় কোনো ম্যাচের আগে নিজেকে মানসিকভাবে কীভাবে প্রস্তুত করেন?
মাসিনু মারমা: নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয় এবং মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। খেলার মাঠে আমরা যে পারফরম্যান্স দেখি, তার পেছনে অনেক অনুশীলন ও প্রস্তুতি থাকে। তাই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করি।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার জুডো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনগুলো?
মাসিনু মারমা: ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জুডো ক্যারিয়ারে আমার প্রায় ২১টি পদক রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি জাতীয় পর্যায়ের। জাপান এম্বাসি আয়োজিত প্রতিযোগিতায় দুটি পদক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি পদক অর্জন করেছি। মোট ১০টি স্বর্ণ, ছয়টি রৌপ্য ও তিনটি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছি। আর রেসলিংয়ে ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে ২০টি স্বর্ণপদক পেয়েছি। ২০২৫ সালে খাগড়াছড়ি বলী সংগঠনের আয়োজনে মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: খেলাধুলার ক্যাটাগরিতে রাষ্ট্রপতি পদক অর্জনের অনুভূতি কেমন?
মাসিনু মারমা: এটি আমার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে খেলাধুলার ক্যাটাগরিতে রাষ্ট্রপতি পদক অর্জন করেছি। একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কতটা কঠিন ছিল?
মাসিনু মারমা: একজন নারী হিসেবে চাকরি, খেলাধুলা ও পড়াশোনা একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। এইচএসসি পাসের পর আনসার বাহিনীতে যোগ দিই। চাকরির পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছি। এরপর উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে ফিজিক্যাল এডুকেশন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: খেলোয়াড়ের পাশাপাশি জুডো রেফারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এই অভিজ্ঞতা কেমন?
মাসিনু মারমা: খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে খেলার পাশাপাশি রেফারি হিসেবে খেলা পরিচালনা করার অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। শেখ কামাল দ্বিতীয় বাংলাদেশ যুব গেমস-২০২৩-এ মহিলা জুডো রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পরে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় গেমস-২০২৬-এও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে মহিলা জুডো রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এতে খেলার নিয়ম ও কৌশল আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ হয়েছে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বর্তমানে জুডোতে আপনার অবস্থান কী?
মাসিনু মারমা: বর্তমানে আমার ব্ল্যাক বেল্ট ২য় ড্যান রয়েছে। সম্প্রতি ৩য় ড্যানের পরীক্ষাও দিয়েছি। আশা করছি, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পেশাগতভাবে ব্ল্যাক বেল্ট ৩য় ড্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করব।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: খেলাধুলার পাশাপাশি কোচ হওয়ার স্বপ্নের কথা বলেছেন। কেন?
মাসিনু মারমা: আমি ভবিষ্যতে একজন ভালো কোচ হতে চাই। যারা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খেলাধুলায় আসতে চায়, তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে এগিয়ে নিতে চাই। আমি নিজেও অনেকের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখানে এসেছি। তাই ভবিষ্যতে নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চাই।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: দেশের বাইরে গিয়ে জুডো খেলেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?
মাসিনু মারমা: দেশের বাইরে গিয়ে কয়েকটি দেশে জুডো খেলেছি। আমাদের আরও বেশি প্রশিক্ষণ দরকার এবং আন্তর্জাতিক মানের কৌশল রপ্ত করা প্রয়োজন। ভালো পারফরম্যান্স করতে হলে ভালো মানের কোচ, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং দেশের বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ দরকার।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বর্তমানে বাংলাদেশে জুডো ও রেসলিংয়ের পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?
মাসিনু মারমা: জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বিকেএসপি এবং উত্তরা ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করছে। মোটামুটি সব প্ল্যাটফর্ম থেকেই সাফল্য আসছে। তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিভা অন্বেষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্য থেকে জুডোসহ বিভিন্ন মার্শাল আর্টের প্রতিভা খুঁজে বের করার কাজ হচ্ছে। এটি নতুন খেলোয়াড়দের খেলাধুলায় আসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: এত সুযোগের পরও জুডো ও রেসলিংয়ে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে?
মাসিনু মারমা: এখনো পর্যাপ্ত আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রাইজমানির সংকট রয়েছে। প্রশাসন যদি বিষয়গুলো একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে, তাহলে দেশের জুডো ও রেসলিং খেলোয়াড়দের জন্য অনেক উপকার হবে। এতে খেলোয়াড়রা আরও উৎসাহ নিয়ে খেলাধুলায় নিজেদের তৈরি করতে পারবে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী?
মাসিনু মারমা: সামনে আসন্ন এশিয়ান গেমসে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারি, তাহলে সেখানে অংশগ্রহণ করতে চাই। পাশাপাশি জুডোতে আরও ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে আরও শক্তভাবে তৈরি করতে চাই।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: নতুন যারা জুডো বা রেসলিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
মাসিনু মারমা: খেলাধুলায় শর্টকাট কোনো রাস্তা নেই। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মানুবর্তিতা ও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। ব্যর্থতাকে ভয় পাওয়া যাবে না। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে এবং প্রতিদিন নিজেকে আগের দিনের চেয়ে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যারা খেলাধুলায় আসতে চায়, তাদেরও স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে হবে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার এই দীর্ঘ পথচলায় যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের সম্পর্কে কিছু বলবেন?
মাসিনু মারমা: আমার খেলার জগতে আসার পেছনে অনেকের অবদান রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্যহলাচাই চৌধুরী আমাকে ফুটবল শিখিয়েছেন। আনসারের ফুটবল কোচ সুইহলামং মারমা আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। জুডোর প্রথম কোচ মোহাম্মদ জানে আলম আমাকে জুডোর প্রতি আগ্রহী করে তুলেছেন। রেসলিংয়ে প্রয়াত মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের অবদানও অনেক। তাঁদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: সবশেষে, আপনার মতো প্রত্যন্ত এলাকার মেয়েদের জন্য কোনো বার্তা দিতে চান?
মাসিনু মারমা: প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছি বলে স্বপ্ন ছোট হতে হবে,এমন কোনো কথা নেই। সুযোগ পেলে মেয়েরাও অনেক দূর যেতে পারে। পরিশ্রম করতে হবে, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং বাধা এলেও থেমে যাওয়া যাবে না। পরিবার, কোচ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করলে আমাদের পাহাড়ের মেয়েরাও দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনতে পারবে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার মূল্যবান সময় ও অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার আগামী দিনের পথচলা আরও সফল হোক,এই শুভকামনা রইল।
মাসিনু মারমা: আপনাকেও ধন্যবাদ। আমার জন্য সবাই দোয়া ও শুভকামনা করবেন। বাংলাদেশের খেলাধুলার পাশে থাকবেন।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস : আপনাকেও আন্তরিক শুভকামনা। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ