২৫২ দলকে পেছনে ফেলে ‘ই-আইকন’ প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী © সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৬তম ‘e-ICON World Contest’-এ বিশ্বসেরা হয়েছে ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের (ডিআরএমসি) দুই শিক্ষার্থী। বিশ্বের ২৫২টি দলকে পেছনে ফেলে তারা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ‘Minister of Education Award’ জয় করেছেন।
গত ৮ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে দলটি প্রথম স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৫২টি দল অংশ নেয়।
ডিআরএমসির শিক্ষার্থী মো. শাফিউল আলম সিদ্দিকী শ্রেষ্ঠ ও অরণ্য আবীর খান প্রাপ্য দক্ষিণ কোরিয়ার দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দল গঠন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ‘Arup-Bit’ নামের দলটি কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সার্বিক সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘Lighthouse’ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) অ্যাপ তৈরি করে।
অ্যাপটিতে ‘Lumi’ নামে একটি বহুভাষিক AI companion বা ভার্চুয়াল সহকারী রাখা হয়েছে। কিশোর-কিশোরীদের সুস্থতা ও দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।
জয়ী হবার পর অনুভূতি ব্যক্ত করে টিম লিডার মো. শফিউল আলম সিদ্দিকী শ্রেষ্ঠ বলেন, দুটি ভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের একই প্রজেক্টে নিয়ে কাজ করানোটা টেকনিক্যালি এবং সময় মেলানোর দিক থেকে বেশ বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। টিম লিডার হিসেবে আমার কাজ ছিল পরিকল্পনা সাজানো এবং কোডিং থেকে শুরু করে প্রেজেন্টেশন পর্যন্ত কাজের কোয়ালিটি ধরে রাখা। স্যারের সঠিক নির্দেশনা আর দলের কঠোর পরিশ্রম ছাড়া এই অর্জনে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না।
দলের সদস্য অরণ্য আবীর খান প্রাপ্য বলেন, সিউলের মঞ্চে পুরস্কারটা হাতে পাওয়ার পর মুহূর্তটা অসাধারণ ছিল। তবে সবচেয়ে ভালো লাগছে এই ভেবে যে আমাদের তৈরি 'লাইটহাউস' অ্যাপ বাংলা, ইংরেজি ও কোরিয়ান তিন ভাষাতেই তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে পারবে। আমরা শুধু দেখাতে চেয়েছিলাম যে সুযোগ পেলে বাংলাদেশের তরুণরাও নতুন কিছু তৈরি করে দেখাতে পারে।
ডিআরএমসির আইসিটি শিক্ষক সায়েদ মাহবুব হাসান আমিরির তত্ত্বাবধানে দলটি প্রকল্পটি তৈরি করে। পুরস্কার গ্রহণের সময় দলের সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষক সায়েদ মাহবুব হাসান আমিরি, দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থী ইউনগিউ লি (Yoonkyu Lee) ও জুনমো কিম (Junmo Kim) এবং দক্ষিন কোরিয়ার শিক্ষক সুনইয়ং ইউন (Sunyoung Yoon) উপস্থিত ছিলেন।