যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা © সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিনিষেধ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম শীর্ষ এই গন্তব্যের বেশ কয়েকটি নামী বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে দেশটির মোট ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ, ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল, শিক্ষাস্তর বা ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ থাকা ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো: ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, কিংস্টন ইউনিভার্সিটি, কিল ইউনিভার্সিটি, রেভেনসবোর্ন ইউনিভার্সিটি লন্ডন, ডি মনফোর্ট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড। এছাড়া রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস ট্রিনিটি সেন্ট ডেভিড, কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ার, মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি, অ্যাংলিয়া রাস্কিন ইউনিভার্সিটি, অনক্যাম্পাস সিইজি ফাউন্ডেশন, ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব ব্র্যাডফোর্ড এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ বার্মিংহাম।
একই সাথে অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটির আন্ডারগ্রাজুয়েট ও সিলেট অঞ্চল, আলস্টার ইউনিভার্সিটির কিউএ ক্যাম্পাস (তবে মূল বেলফাস্ট ক্যাম্পাস চালু রয়েছে) এবং নর্থাম্ব্রিয়া ইউনিভার্সিটির কিউএ ক্যাম্পাসেও (তবে মূল নিউক্যাসল ক্যাম্পাস চালু রয়েছে) বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে এই পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বাকি ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল ও শিক্ষাস্তরের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে বলে জানা গেছে।
অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের আবেদন এবং সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিধিনিষেধ জারি করেছে বলে জানা গেছে। আলস্টার ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে কিউএ-এর মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমে বিধিনিষেধ থাকলেও মূল বেলফাস্ট ক্যাম্পাস খোলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নর্থামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রেও কিউএ-তে বিধিনিষেধ থাকলেও মূল নিউক্যাসল ক্যাম্পাস বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা থাকার কথা বলা হয়েছে।
বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক ও এমরেস (MRes) কোর্সে আবেদন, বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক পর্যায় ও সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থী এবং কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক পর্যায় ও সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব বেডফোর্ডশায়ারে ঢাকা ছাড়া বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিধিনিষেধ রয়েছে জানাগেছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস, অ্যাবেরিস্টউইথ ইউনিভার্সিটি ও অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন গ্রুপে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব চেস্টারের ক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও মে সেশনের জন্য পুরো বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক পর্যায়ের কোর্স এবং ঢাকা ও সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে।
ক্যান্টারবেরি ক্রাইস্ট চার্চ ইউনিভার্সিটি ও রিজেন্ট কলেজ লন্ডনের ক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ল-এ সিলেটের শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়সংক্রান্ত কোর্সে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারে স্নাতক পর্যায়ের কোর্স, সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থী এবং ম্যানেজমেন্ট-সংক্রান্ত কোর্সে বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। অ্যাস্টন ইউনিভার্সিটির লন্ডন ক্যাম্পাসে সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য বিধিনিষেধ থাকলেও বার্মিংহাম ক্যাম্পাস খোলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব হালের লন্ডন ক্যাম্পাসে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিধিনিষেধ থাকলেও মূল ক্যাম্পাস খোলা থাকার কথা বলা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ব্রাইটনেও সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটনে সিলেটের শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের ব্যবসায়সংক্রান্ত কোর্স এবং এমরেস (MRes) কোর্সের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব গ্রেটার ম্যানচেস্টার, বোল্টনে এমরেস (MRes) ও পিএইচডি (PhD) কোর্সে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের ক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিধিনিষেধ থাকলেও বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কোর্স খোলা থাকার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদন প্রক্রিয়া, কোর্স, ক্যাম্পাস ও অঞ্চলভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে। এমনকি সময়ের সঙ্গে এসব নীতিতে পরিবর্তনও আসতে পারে। তাই যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স বাছাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ তথ্য দেখে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।