জাবিতে সাংবাদিককে তিন ঘণ্টা ধরে নির্যাতন, ৮ কর্মীকে অব্যাহতি

ছাত্রলীগ
জাবিতে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে  © ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিককে গেস্ট রুমে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় ৮ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শাখা ছাত্রলীগই নির্যাতনকারীদের নাম জানিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) মধ্যরাতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিত সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে নির্যাতনকারী হিসেবে দাবি করেন।

রাতেই প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রুম থেকে ডেকে নিয়ে নিজের ও বন্ধুদের পরিচয় দিতে বলা হয় সাংবাদিককে। পরে সিলিং ধরে নির্দিষ্ট সময় ঝুলতে বলা হয় তাকে। সময় শেষ হওয়ার আগেই ওই সাংবাদিক নেমে গেলে টেবিলের নিচে মাথা দিতে বলা হয় তাকে। এতেও অপারগ হলে ক্ষুব্ধ হয়ে যান নির্যাতনকারীরা।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে রেকর্ড করছি কি না তা নিশ্চিত হতে তাদের কাছে ফোনটা দিতে বলে। লক খুলে দিতে বললে অস্বীকৃতি জানাই। পরে তারা শার্টের কলার ধরে অনেকে মিলে ওপর আক্রমণ করে। তারা ফোন অনেকক্ষণ আটকে রাখে।

এ ঘটনার পরই সেখানে উপস্থিত হন শাখা ছাত্রলীগ ও সাংবাদিক নেতারা। তারা নির্যাতিত ও নির্যাতনকারীদের কথা শোনেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তারুজামান সোহেল ‘ক্রস চেক’ করে নির্যাতনকারী আটজনের নাম ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন: ১১ দিন পর জবি ছাত্রী পারিসার মোবাইল উদ্ধার

তারা হলেন- ৪৬তম ব্যাচের নৃবিজ্ঞান বিভাগের আসাদ হক ও আরিফ জামান সেজান, ৪৭ ব্যাচের অর্থনীতির জিয়াদ মির্জা, দর্শনের হাসিবুল হাসান রিশাদ, নৃবিজ্ঞানের রাইহান বিন হাবিব, প্রাণিবিদ্যার মুনতাসির আহমেদ তাহরীম, আইন ও বিচার বিভাগের মাসুম বিল্লাহ্ এবং ৪৮তম ব্যাচের রসায়ন বিভাগের জাহিদ হাসান।

তাদেরকে ছাত্রলীগ কর্মী স্বীকার করে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগ। সভাপতি আক্তারুজ্জামান সোহেল বলেন, তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকুক তা চাই না। সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে তারা অবাঞ্ছিত গণ্য হবেন। এই কমিটি থাকা অবস্থায় তারা রাজনীতির সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকবেন না। আগামী কমিটিতেও তাদের থাকার সুযোগ নেই।'

ওই লিস্টে নাম আসা আট শিক্ষার্থীর একজন বলেন, ছাত্রলীগ কিসের ভিত্তিতে আমার নাম বলল? তারা তো আমার কাছ থেকে কিছু জানতে চাননি। একপাক্ষিক হয়ে গেছে বিষয়টি।

এদিকে প্রায় তিন ঘণ্টা এমন পরিস্থিতি চলার পরও হলের প্রভোস্ট, ওয়ার্ডেন, আবাসিক শিক্ষকসহ কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। ফোন দিলেও তারা ধরেননি। আজ বুধবার সকালে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফী বলেন, বিষয়টি রাতে জানতে পারিনি। দেখছি বিষয়টি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, হল প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত।


x