© লোগো
আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যা সুস্পষ্টভাবেই একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। এ অবস্থায় যেকোন পরীক্ষা গ্রহণের পূর্বে শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দিয়ে আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে সংগঠনটি।
আজ রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসজনিত মহামারীর কারণে দীর্ঘ দশ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল রাখার চেষ্টা করা হলেও তাতে সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। এতে ইতোমধ্যেই প্রান্তিক ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। উপরন্তু, গত ১০ তারিখ জানতে পেরেছি যে আগামী ২৬ তারিখ থেকে অনার্স ৪র্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা হতবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, এই সকল পরীক্ষার্থীদের হলে থাকার কোনো বন্দোবস্ত প্রশাসনের তরফ থেকে করা হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, ফাইনাল পরীক্ষার সময়ে পরীক্ষার্থীরা তাদের আবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকলে এর প্রভাব তাদের পরীক্ষাতেও পড়বে। এই দুই ব্যাচের প্রায় দশ থেকে বার হাজার শিক্ষার্থীর একমাত্র আবাসস্থান- বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি। বরং পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আবাসনের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের উপরই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এহেন উদাসীন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
‘এ অবস্থায় সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষার এবং হলে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে এবং বৈষম্য এড়ানোর লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি যে, করোনাকালীন সময়ে কোনো ব্যাচের পরীক্ষা নেয়া হলে সেক্ষেত্রে সকল পরিক্ষার্থীর হলে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’