যে কারণে ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়লেন জাবের-জুমা-সাব্বির

০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ PM , আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ PM
আব্দুল্লাহ আল জাবের ও ফাতিমা তাসনিম জুমা

আব্দুল্লাহ আল জাবের ও ফাতিমা তাসনিম জুমা © টিডিসি সম্পাদিত

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের, প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট ও ইনচার্জ জি.এ. সাব্বির। বুধবার (৮ জুলাই) তারা নিজ নিজ ফেসবুক আইডিতে পৃথক পোস্টে এ তথ্য জানান।

ইনকিলাব সেন্টার ছাড়ার ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন জাবের, জুমা ও সাব্বির। তাদের ফেসবুক পোস্টে দেওয়া ইঙ্গিতেই বিষয়টির মাধ্যমে কারণের আভাস পাওয়া যায়।

জাবের দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমি আব্দুল্লাহ আল জাবের, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান। শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের পূর্বে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিলেও শেষ করে যেতে পারেননি। যেহেতু এটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে জনতার আমানত হিসেবে পরিচিত ও পরিকল্পনাও এমনই ছিল, তাই আমরা বিগত ছয় মাস শাহাদাত পরবর্তী উত্থাপিত ওয়ারিশ সংক্রান্ত ইস্যু সমাধানের চেষ্টা করেছি। সমসাময়িক সময়ে আমরা নানাবিধ প্রোডাক্টিভ কাজের পরিকল্পনাও হাতে নিই, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন বিষয়গুলো আরো জটিল হয়ে পড়েছে। 

জাবের আরও লিখেছেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদিকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে ভীষণ ভালোবাসা ও সম্মান আপনারা আমায় দিয়েছেন তার জন্য আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। আপনাদের অসম্ভব বিশ্বাসের দায় রক্ষা করতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কতখানি পেরেছি জানি না।

‘তবে শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের পর ঢাকা ৮, সেন্টার সহ সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় এই সংক্রান্ত হিসাব ব্যতীত আমার দায়িত্বকালীন সময়ের অন্যান্য সব হিসাব দ্রুততম সময়ে পাবলিক করা হবে। ইনসাফের লড়াই ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের যে স্বপ্ন শহীদ ওসমান হাদি জাগিয়ে গিয়েছেন, তা বয়ে নেওয়ার যে বিশাল ভার খোদাতায়ালা আমাদের কাছে সমর্পণ করেছেন, তা চালিয়ে যাওয়ার জন্য দোয়া চাই। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার কেন্দ্রীক আমার যাত্রা এতোটুকুই। হাসবি আল্লাহ।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসে জুমা লিখেছেন, আমি ফাতিমা তাসনিম জুমা, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। জুলাই পরবর্তী নানান রাজনৈতিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে আমি ইনকিলাবে যুক্ত হই বাংলাদেশপন্থি কালচারের স্বার্থে। ইনকিলাব যখন কালচার থেকে কিছুটা পলিটিক্যাল হয়ে উঠতে শুরু করে, আমি শহিদ ওসমান হাদির নিকট অভিযোগ করছিলাম, কালচার থেকে যেন ফোকাস না হারাই। এরপর আমরা সকলে হাতে করে দিন রাত এক করে আস্তে আস্তে এই সেন্টার গড়ে তুলি।
   
ওসমান হাদির শাহাদাতের পর নানাবিধ ওয়ারিশ সংক্রান্ত ঝামেলা সামনে আসে জানিয়ে জুমা লেখেন, এই সকল সমস্যা চিন্তা করে ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা চালালেও শেষ করে যেতে পারেননি হাদি ভাই। শহিদ ওসমান হাদির পর জনগণ আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছে সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকে আমরা জনতার আমানত রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। তবে ইদানিং সময়ে ওয়ারিশ সংক্রান্ত বিষয় নানান আলাপ আপনারা পাবলিক হতে দেখেছেন। যেখানে নানাবিধ অপপ্রচার ও মানহানিকর মন্তব্য প্রচারিত হয়েছে। আই ডোন্ট থিংক আই হ্যাভ দ্য রাইট টু ক্যারি দিজ বার্ডেনস হোয়াইল আই অ্যাম স্টিল লিভিং অন মাই প্যারেন্টস মানি। আমার বাবা-মা অন্তত এসব দেখা ডিজার্ভ করেনা।

তিনি আরও লেখেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদিকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেহেতু ভাইয়ের শাহাদাতের পূর্বের সকল একাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল, এর পর হতে ও আমার দায়িত্বকালীন সময়ের সেন্টারের সকল হিসাব দ্রুততম সময়ে পাবলিক করা হবে। আপনাদের ভীষণ বিশ্বাস ও ভালোবাসার দায় ইনকিলাব মঞ্চ রাখবে ইনশা আল্লাহ। লড়াইটা আমাদের নিকট মূখ্য, লড়াই চলবে অন্য কোনও মাধ্যমে, অন্য কোনও উপায়ে। জিতটাই কেবল জীবন নয়, লড়াইটাই জীবন। 

এদিকে ফেসবুকে সাব্বির জানান, শহীদ ওসমান হাদির সাংস্কৃতিক লড়াইকে নিজের মনে করেই তিনি এই সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন এবং তার শাহাদাতের পর সেই লড়াইয়ের আকাঙ্ক্ষা আরও মজবুত হয়েছিল।

অব্যাহতির মূল কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের যাবতীয় নথিপত্র মূলত ওসমান হাদির নামে নিবন্ধিত ছিল। ট্রাস্ট গঠনের যে পরিকল্পনা ছিল, তা তিনি জীবিত অবস্থায় শেষ করে যেতে পারেননি। ফলে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে বর্তমানে এই সেন্টারের মূল উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ তার পরিবার।

জি.এ. সাব্বির অভিযোগ করেন, শহীদের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করে তারা এতদিন বিভিন্ন সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক জটিলতা সত্ত্বেও নীরব থেকে কাজ চালিয়ে গেছেন। কিন্তু বর্তমানে এই আইনি ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার ফলে তাদের পক্ষে সেন্টারের কার্যক্রম আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। এই যাত্রায় কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হয়েছি, তার হিসাব ইতিহাসের কাছেই তুলে রাখলাম।

আজ টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যদি পার আমার পাওনা আদায় করে তোমার বউদির হাতে দিও— চিরকুটে য…
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাওনা টাকা চাওয়ায় বন্ধুকে হত্যা করে মাটিচাপা
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 মেঘমল্লার বসুর জ্ঞান ফিরেছে
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতিতে অধ্যক্ষের স্থায়ী বহিষ্কারের…
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলাপাতার থালায় খাবার বিতরণ, ধনী গরীব সবাই খেলেন একপাত্রে
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9