ছাত্রদল নেতা রাফিজ আহমেদ © সংগৃহীত
আজ ১৩ মে দুপুরে শীর্ষস্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসে আমাকে নিয়ে "ছাত্রদল নেতার আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে, এআই দিয়ে তৈরি দাবি করে থানায় জিডি" শীর্ষক একটি সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমি উক্ত সংবাদের বিষয়বস্তু এবং প্রচারিত ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, এডিটেড ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমাকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই নিউজ প্রকাশের ফলে আমার রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুন্ন ও সামাজিকভাবে সম্মানহানি হয়েছে।
প্রকৃত সত্য এই যে, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এই ভুয়া ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়, বছরখানেক আগেও বিভিন্ন ফেক আইডি থেকে এই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিলো এবং সেই সময়েও আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। এছাড়া নিউজে বিভিন্ন সেকেন্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বিষয়টিকে প্রমানিত করার অপচেষ্টা কর হয়েছে। বর্তমানে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি গঠনের একটি প্রক্রিয়া চলছে এবং আমি সেই কমিটির একজন পদপ্রার্থী, তাই আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে এই ভিডিও পুনরায় ছড়িয়ে দিয়ে আমার সম্মানহানির চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে গত ৮ মে (শুক্রবার) ‘জাতীয়তাবাদী খাম্বা দল’ নামক একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং এডিটিং প্রযুক্তির অপব্যবহার করে আমার যে ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তার সাথে আমার বাস্তব জীবনের কোনো নূন্যতমও সম্পর্কও নেই। এর আগেও আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক আইডি ক্লোন করে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। সে বিষয়ে আমি গত ২৩/১১/২০২৩ (জিডি নং-৯৩১) এবং ০৪/০৫/২০২৫ (জিডি নং-১৫৫) তারিখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। সর্বশেষ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে আমি গত ৯ মে ২০২৬ তারিখে পুনরায় ইবি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪২১) সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে আমি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
যদি এসব ঘটনার সাথে আমার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা থাকতো তাহলে আমি আইনের আশ্রয় নেওয়ার মতো সৎ সাহস দেখাতাম না। যারা এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আমি কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটি পক্ষ আমার ইমেজে কোন কালিমা না পেয়ে রাজনৈতিকভাবে আমাকে ঘায়েল করতে অহেতুক এই সংবাদ পরিবেশনে ভূমিকা রেখেছে বলে আমি মনে করি। একটি মহল হয়তো ভয় পেয়েছে যে আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসলে তারা রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে। সেই জায়গা থেকেই আমাকে বিতর্কিত করে উঠে পড়ে লেগেছে। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের মতো বৃহৎ একটি গণমাধ্যমকে এজাতীয় সংবাদ প্রকাশে আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদের উল্লেখ করে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি এবং হেয় প্রতিপন্ন করতে ছড়ানো হয়েছে দাবি করে থানায় জিডি করেন ছাত্রদল নেতা। ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং জিডির বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রতিবেদকের নিজস্ব মতামত বা বক্তব্য নেই।