ছাত্র ইউনিয়ন
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের লোগো © সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৫ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকারের ভিডিও বাতিলের সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। একইসাথে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিল ইতিহাস মুছে দেওয়ার চক্রান্তের অংশ বলে মন্তব্য করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক মেরাজ খান আদর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এক যৌথভাবে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমরা লক্ষ্য করেছি আমাদের জাতীয় গৌরব, আমাদের জনযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। এসব বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে বরং প্রচ্ছন্ন সমর্থন জুগিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রায় ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারের ভিডিও বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 'সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়নি' এই অজুহাতে ভিডিও সাক্ষাৎকারগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এটি স্পষ্টতই আমাদের জাতীয় গৌরব মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র।’
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তথাকথিত ফ্যাসিবাদী চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক বেশ কিছু প্রকল্প বাতিল করেছে। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্ববিরোধী অবস্থান জনসাধারণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। মুখে ৭১-কে জাতীয় গৌরব বললেও কার্যত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরিবর্তন, ধ্বংস করার মত কার্যক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার লিপ্ত হয়েছে।’
ছাত্র ইউনিয়ন জানায়, সরকারকে অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকারের ভিডিও বাতিল নিয়ে তার গৃহীত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে সচেষ্ট হতে হবে। আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আমাদের জনযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার যেকোন চক্রান্ত আমরা প্রতিহত করব। যদি সরকার ৫০ কোটি টাকা পরিশোধে অপারগ হয় তবে ঘোষণা দিয়ে গণ চাঁদা উত্তোলনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাই। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিলের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘২০২২ সালে ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাথা’ শিরোনামে প্রকল্পের আওতায় ৮০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্যচিত্র, ৮০ হাজার ইউটিউব কনটেন্ট (আধেয়) এবং ১৬টি ডকুমেন্টারি তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল যার ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।’