ইবি ছাত্রী নির্যাতনের ‘মূলহোতা’র সংশ্লিষ্টতা পায়নি ছাত্রলীগ

ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা
ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা  © ফাইল ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেছে শাখা ছাত্রলীগের গঠিত তদন্ত কমিটি। রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে আট পেজের একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। ওই প্রতিবেদনে তারা, ছাত্রী নির্যাতনের মূল অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরার কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের একটি গণরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এতে ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, তাবাসসুম ইসলাম, মোয়াবিয়া জাহান, ইসরাত জাহান মিমি ও হালিমা খাতুন উর্মীর নামে প্রশাসন বরাবর ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি লিখিত অভিযোগ দেয় নবীন শিক্ষার্থী ফুলপরী। 

বিষয়টি সবার সামনে আসলে দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ালে বাধ্য হয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাখা ছাত্রলীগ। এ ছাড়াও হল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসনও তদন্ত কমিটি গঠন করে।

ছাত্রলীগের গঠিত তদন্ত কমিটি রবিবার বিকেলে ভুক্তভোগী ফুলপরী খাতুনের বক্তব্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শোনে। এর পর রাতে কেন্দ্রে তারা প্রতিবেদন পাঠায় । কিন্তু এতে তারা কোনো সুপারিশ করেনি। আট পৃষ্ঠার এই তদন্তে তারা কেবল মাত্র ফুলপরীর সঙ্গে উগ্র আচরণের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এ সব ঘটনায় তারা মূল অভিযুক্ত অন্তরার কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি বলে জানিয়েছে। অন্তরা কেবল মাত্র হলটির ৩০৬ নম্বর রুম থেকে গণরুমে যাওয়ার নির্দেশ দেয় বলে তারা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কিন্তু মারধর বা অন্যান্য নির্যাতনে অন্তরার সংশ্লিষ্টতার পাওয়া যায়নি তাদের সে প্রতিবেদনে। ফুলপরীর জবানবন্দি উদ্ধৃত করে এমন প্রতিবেদন বলছে তদন্ত কমিটি। এছাড়াও ছাত্রলীগের গঠিত একমিটি ওই শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণেরও সত্যতাও পায়নি। তবে এ ঘটনায় অন্তরা বাদে প্রায় নয়জনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার দিন ৩০৬ নম্বর রুম থেকে ফুলপরীকে গণরুমে দিয়ে আসতে বলেছে অন্তরা। ফুলপরীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অন্তরা কি বকাঝকা বা খারাপ আচরণ করেছে? তখন ফুলপরী বলেছে- না সে কোনোটাই করেনি। অন্তরার নাম সে শুধু শুনেছে। তাই অন্তরার তেমন কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে আলোচিত এ প্রতিবেদনে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সহ-সভাপতি মুন্সি কামরুল হাসান অনিক জানিয়েছেন, সেদিন কিছু ঘটনা ঘটেছিল। আমরা আট পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আর ফুলপরী খাতুন জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির ওরা বলেছিল- অন্তরাতো নিজে নিচে নামেনি। তখন বলেছিলাম, অন্তরা আপু নিজে ওদের হুকুম দিয়ে আমাকে মারাইছে। তখন তারা বলে- তুমি কীভাবে জানো সেটা? তখন বললাম- উর্মি আপু মারার সময় বলেছিল, আমার তো মারতে মারতে হাত ব্যথা হয়েছে, অন্তরা আপুর হুকুম ছাড়া আমরা কেন তোকে মারব? আমরা কি তোকে চিনি, জানি? অন্তরা আপুর হুকুম ছাড়া কারও ক্ষমতা নাই আমার গায়ে হাত দেওয়ার। এসব ঘটনা তদন্ত কমিটিকে জানানোর কথা জানিয়েছে ফুলপরী।

ছাত্রলীগের ওপর আমার কোনো আস্থা নেই জানিয়ে ফুলপরী জানান, তারা যা রিপোর্ট দেয়, দিক; আরও তো তিনটা তদন্ত কমিটি আছে। তারা কিছু করবে না, এটা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। করলে শুরুতেই সাময়িক হলেও কোনো ব্যবস্থা নিত। ওরা দুই নাম্বারি করবে, অনুমান করে তাদের ডাকে ক্যাম্পাসে যাইনি বলেও জানান তিনি।