মহামারীতে সকল শ্রেণির মানুষের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি

ঈদ উপহার
শিক্ষা, সচেতনতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পুরুষবিহীন পরিবারগুলোকে নিয়ে কাজ করে ওয়ার্কস ফর হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন  © টিডিসি ফটো

বৈশ্বিক মহামারীতে ভুগছে সবাই। ভোগান্তি খাবারের জন্য, অর্থের জন্য, অক্সিজেনের জন্য, খোলা আকাশের নিচে মুক্ত বাতাসে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার জন্য!

ঈদ বাংলাদেশী মুসলমানদের একটি প্রধান উৎসব কিন্তু তবুও এবারের ঈদ অনেকের কাছেই আনন্দের বদলে দুশ্চিন্তা হয়ে এসেছে। আর এই দুশ্চিন্তা দূর করতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ওয়ার্কস ফর হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন।

নোয়াখালী জেলার দুইটি গ্রামে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে উপার্জন বন্ধ থাকা পরিবারগুলোকে দেওয়া হয় ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী (সেমাই, পোলাওর চাল, দুধ, চিনি, নুডলস, মশলা)।

প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে এসেও দাঁড়িয়েছে ওয়ার্কস ফর হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন। ওদের কেউ কথা বলতে পারেনা, কেউবা হাঁটতে পারেনা। ঈদের দিনের জন্য অন্য সুস্থ-স্বাভাবিক শিশুগুলোর মতই ওদের মনেও আনন্দ, উদ্দীপনা। নরসিংদী জেলায় প্রতিবন্ধী শিশু ও ওদের পরিবারকে দেওয়া হয় ঈদ বাজার (পোলাওর চাল, তেল, ডিম, মশলা, দুধ, সেমাই, চিনি ইত্যাদি)।

এখানেই শেষ নয়। শিশুশ্রমিকদের কথা ভুলে যায়নি এই প্রতিষ্ঠান। ওরা কেউ ফুল বিক্রি করে, কেউবা চকলেট, ক্লিপ। পথচারীদের কাছে হাত পাতেনা ওরা। ওদেরকেও খাদ্যসামগ্রী দিতে চাইলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

শিশুশ্রমিক ইমা বলে, ভাইয়া খাবার দিও না। জামা দাও। নতুন জামা নাই। আমার ছোট ভাইটার জন্যেও দাও। ওর সব জামা ময়লা। একটাও পরিষ্কার জামা নাই।

শিশুশ্রমিক হোক বা এয়ার কন্ডিশনড রুমে থাকা শিশু, সব বাচ্চার কাছেই ভালো খাবারের চেয়ে নতুন জামা বেশি আকর্ষণীয়। ঢাকার ধানমন্ডিতে শিশুশ্রমিকদেরকে ঈদের জামা উপহার দেয় ওয়ার্কস ফর হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন।

২০১৬ সাল হতে কাজ করে আসা এই সংগঠনটি কাজ করে সমগ্র বাংলাদেশে এমনকি ভারতেও। শিক্ষা, সচেতনতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পুরুষবিহীন পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বীকরণ, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে ওয়ার্কস ফর হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন।

রয়েছে জীবন সুন্দর নামে একটি ক্লাব যেখানে সদস্য হিসেবে রয়েছে ক্যান্সার রোগী, শারীরিক নির্যাতনের শিকার নারী ও সেসকল মানুষ যারা একাকীত্বে ভোগে। বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের কাছে জীবনকে উপভোগ্য করে তুলে এই সংগঠন।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ