প্যাথলজি রিপোর্টে চিকিৎসকের একক স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাতিলের দাবি

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭ PM , আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৮ PM
সংবাদ সম্মেলনে বিএসিবির নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে বিএসিবির নেতারা © সংগৃহীত

প্যাথলজি রিপোর্টে চিকিৎসকের একক স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হলে দেশে চলমান ল্যাবগুলোতে স্বাক্ষরকারীর তীব্র সংকট দেখা দেবে। এতে রিপোর্ট সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। এ ছাড়া ডায়াগনস্টিক সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার ল্যাব অচল হয়ে পড়বে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন বক্তারা।

ল্যাব খাতের প্রশিক্ষিত ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের দেশে রাখা নিশ্চিতে রিপোর্টে একক স্বাক্ষরের নীতি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল এবং স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনার আলোকে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের কাউন্সিল গঠন করারও দাবি জানান তারা। 

‘প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষর প্রদানের ক্ষেত্রে ডিজি হ্যালথ কর্তৃক বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টস (বিএসিবি)।

বিএসিবির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক, হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক উম্মেল খায়ের ফাতেমা খান মজলিসের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের আহ্বায়ক, প্রভা হেলথের ল্যাব ডিরেক্টর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টস (বিএসিবি) গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি হেলখের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) কর্তৃক গত ০৫/০১/২০২৬ এবং ০৭/০১/২০২৬ (সংশোধিত) তারিখে জারিকৃত প্যাথলজি ল্যাব সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা (স্মারক নং: স্বঃ অধি/হাস:/নির্দেশনা/২০২৫/১৫) এর ৫ নম্বর ইস্যুতে বলা হয়েছে, রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকগণকে বিএমডিসি রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্রাজুয়েট হতে হবে। এই নির্দেশনাটি বৈষম্যমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ল্যাবরেটরি বাস্তবতার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিশেষায়িত ডায়াগনোস্টিক সেন্টার ও ল্যাবরেটরিগুলোতে হিস্টোপ্যাথোলজিস্ট, হেমাটোলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও ক্লিনিক্যাল প্যাথোলজিস্ট এবং মেডিকেল/ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টরা তাঁদের নিজ নিজ বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্র অনুযায়ী পরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষর করে আসছেন। এটি একটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় চর্চা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত মানদণ্ড। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি বায়োকেমিস্ট ও ল্যাব বিশেষজ্ঞরা রিপোর্টে স্বাক্ষর করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু এ নির্দেশনার মাধ্যমে এসব দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীকে কার্যত অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও পেশাগত মর্যাদাহানিকর।

ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের ভূমিকা
এ সময় ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যোগ্য ও অভিজ্ঞ ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রায় ৫০ বছর ধরে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টরা দেশের ডায়াগনস্টিক স্বাস্থ্য খাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। আধুনিক ল্যাবরেটরি সেবার বিকাশ, টেস্ট মেথড ভ্যালিডেশন, ইন্টারনাল কোয়ালিটি কন্ট্রোল (আইকিউসি), এক্সটার্নাল কোয়ালিটি অ্যাসেসমেন্ট (ইকিউএএস), ক্যালিব্রেশন, SOP প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অ্যাক্রেডিটেশনভিত্তিক কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে বলতে চাই যে, এই নির্দেশনার কারণে হাজারো ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টসহ অন্যান্য ল্যাবভিত্তিক বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী ডায়াগনোস্টিক সেক্টরে তাঁদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও ন্যায্য পেশাগত ভূমিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি শুধু পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের ডায়াগনোস্টিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর হুমকি।’

করোনা মহামারিতে ভূমিকা
তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারির সময় সারাদেশে ডিএনএ ও পিসিআর ল্যাবরেটরি স্থাপন ও পরিচালনায় ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশ সরকার আইন করেই মলিকুউলার বায়োলজি ল্যাব ও গামকা ল্যাবরেটরিতে বায়োকেমিস্টদের স্বীকৃতি দিয়েছে।’

ল্যাব কার্যক্রমে চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্তিতে অনাপত্তি 
তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই, চিকিৎসকদের ল্যাবরেটরি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা আমরা করছি না। বরং চিকিৎসক, ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট ও অন্যান্য ল্যাব পেশাজীবীদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, কার্যকর, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ডায়াগনোস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।’

ডায়াগনোস্টিক সেবা ভেঙে পড়ার শঙ্কা
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পরবর্তী সময়ে দেশে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল খাতে যে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তার ফলেই আজ দেশের জনগণ আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা নিজ দেশেই পাচ্ছে এবং স্বাস্থ্য খাতে আমাদের বিদেশনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জারিকৃত এই নির্দেশনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, একটি সুপরিকল্পিত ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক চক্রান্তের অংশ। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের ডায়াগনোস্টিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও পেশাদার ডায়াগনোস্টিক ল্যাবভিত্তিক জনবল কার্যত ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।’

কার্যকর হলে যেসব সংকটের শঙ্কা
নির্দেশনা কার্যকর হলে নানা সংকট তৈরি হবে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত প্রায় ২৬,০০০ প্যাথলজি ল্যাবের বড় একটি অংশের বায়োকেমিস্ট্রি ও ইমিউনোলজি বিভাগ নন-মেডিক্যাল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের দক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। হঠাৎ করে শুধুমাত্র বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দিয়ে রিপোর্ট স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করলে ল্যাবে রিপোর্ট স্বাক্ষরকারীর মারাত্মক সংকট তৈরি হবে, হাজার হাজার ল্যাব কার্যত অচল হয়ে পড়বে, রিপোর্ট ডেলিভারিতে মারাত্মক বিলম্ব হবে। 

অল্পসংখ্যক প্যাথলজিস্ট দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা অসম্ভব উল্লেখ করে তারা বলেন, এতে রোগীর জীবন, মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়বে এবং ডায়াগনস্টিক সেবার মান ও নির্ভুলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

বিদ্যমান আইন ও নীতিগত বাস্তবতা
সংবাদ সম্মেলনে এ পেশা নিয়ে বিদ্যমান আইন ও নীতিগত বাস্তবতার বিষয়টি তুলে ধরে তারা বলেন, বিদ্যমান স্বাস্থ্য আইন-বিশেষ করে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং এর সংশোধনীতে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের রিপোর্টে স্বাক্ষরের অধিকার বাতিল করে শুধুমাত্র চিকিৎসকদের জন্য তা নির্ধারণ করার কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই।

‘২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত স্বস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশমালা ৭(৪)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হয় কম্পিটেন্সি ও ট্রেনিং এক্সপেরিয়েন্স দিয়ে, ডিগ্রির নাম দিয়ে নয়। ফলে এই নির্দেশনা ISO 15189, CAP, WHO guideline-এর সাথে সাংঘর্ষিক’—অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

তারা বলেন, ‘ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪ (২০১৪ সনের ১০ নং আইন) ১৪-এ বাংলাদেশ সরকার আইন করেই মলিকুউলার বায়োলজি ল্যাবরেটরিতে বায়োকেমিস্টদের স্বীকৃতি দিয়েছে। নং-৪৯,০০,০০০০.০৪২.০১.০৭৫.২২-১৬০ তারিখ: ০৭ কার্তিক ১৪২৯ বঙ্গাব্দ/২৩ অক্টোবর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ বিদেশে গমনেচ্ছু বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২২ (সংশোধিত) এর ৮.৯ ধারার ৪ নং উপধারায় গামকা ল্যাবরেটরিতে বায়োকেমিস্ট নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’

সাধারণ জনগণের উপর প্রভাব
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ সঠিক, নির্ভুল ও সময়োপযোগী রোগ নির্ণয় সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন বলে দাবি করেন তারা। বলেন, এ ছাড়াও ভুল বা বিলম্বিত রোগ নির্ণয়ের কারণে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সংকট তৈরি হবে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে ডায়াগনস্টিক ল্যাব খাতের প্রশিক্ষিত ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টরা দেশ ও শেশা ছাড়তে বাধ্য হবেন। এতে গবেষণা ও বিশেষায়িত ল্যাব সেবা কার্যত ধ্বংস হয়ে যাবে, পাবলিক ও প্রাইভেট ল্যাব ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, স্বাস্থ্যখাতে অযৌক্তিক একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি বাড়বে। 

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বায়োকেমিস্ট্রি শিক্ষা নিরুৎসাহিত হবে জানিয়ে তারা বলেন, প্রায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং তরুণ মেধাবীরা এই পেশায় আসতে আগ্রহ হারাবে। 

‘সেই সঙ্গে ডায়াগনস্টিক ল্যাবের মান ও দক্ষ জনবল দুর্বল হয়ে পড়বে, রোগীরা দেশের ডায়াগনস্টিক সেবার ওপর আস্থা হারাবে, উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হবে। এ কারণে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাবে এবং চিকিৎসারর উদ্দেশ্যে অন্য দেশে ভ্রমণ বৃদ্ধি পাবে’—যোগ করেন তারা।

বিএসিবির দাবিসমূহ
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট (বিএসিবি) পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে। এগুলো হলো—নির্দেশনার ৫ নম্বর ইস্যু অবিলম্বে বাতিল অথবা সংশোধন করতে হবে, ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের (নন-মেডিক্যাল) রিপোর্ট স্বাক্ষরের অধিকার বহাল করতে হবে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কম্পিটেন্সি বেইজড পলিসি প্রণয়ন করতে হবে, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাবনায় অ্যালাইড হেলথ কাউন্সিলের সাথে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের কাউন্সিল গঠন করতে হবে এবং পেশাগত বৈষম্য পরিহার করে রোগী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যখাতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। 

ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টরা বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশনার ৫ নম্বর ধারা বাতিল অথবা সংশোধন করে অন্যান্য বিশেষায়িত প্যাথলজিস্টদের পাশাপাশি নন-মেডিকেল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের রিপোর্টে স্বাক্ষরের সুযোগ রেখে একটি বাস্তবসম্মত ও ন্যায়সঙ্গত নির্দেশনা জারি করতে হবে।

এ নির্দেশনাকে আত্মঘাতী, বৈষম্যমূলক ও বাস্তবতাবিবর্জিত আখ্যা দিয়ে তারা আরও বলেন, অবিলম্বে তা প্রত্যাহার না করা হলে দেশের স্বাস্থ্য খাত বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক ল্যাব ব্যবস্থা, চিকিৎসা সিদ্ধান্ত এবং সর্বোপরি জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এক অপূরণীয় সংকটে পড়বে, যার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

তারা আরও বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থে, স্বাস্থ্য সেবার মান রক্ষা এবং পেশাগত মর্যাদা সংরক্ষণে এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে বৈজ্ঞানিক, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রো ভিসি অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. হোসেন মোহাম্মদ শেখর, বিএসিবির কোষাধ্যক্ষ ও প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার, সমন্বয়কারী বাডাস ডক্টর আব্দুল মুত্তালেব, বিএসিবির অন্যতম যুগ্ন আহ্বায়ক ল্যাব ডিরেক্টর এনএইচএন শফিকুর রহমান।

আরো উপস্থিত ছিলেন বায়োকেমিস্ট এবং মলিকুলার বায়োলজিস্ট ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এখন পর্যন্ত বদলি ৮ ইউএনও, নেপথ্যে কী?
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
পে কমিশনে সুপারিশে সন্তুষ্ট নয় ঐক্য পরিষদ নেতারা, প্রতিক্রি…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
শাবিপ্রবি ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হওয়ায় আরও ৬৯ নেতাকে বহিষ্ক…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
রাতেই শ্বশুর বাড়ি যাবেন তারেক রহমান
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬