৯ ফুটবলার © টিডিসি সম্পাদিত
২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। দল সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন ফরম্যাট ও তিন দেশে যৌথ আয়োজনের কারণে এবার আসরটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। তবে এই মহাযজ্ঞের মাঝেও আলোচনায় আছেন কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার। বয়স ৩৫ পেরোলেও জাতীয় দলের ভরসা হয়ে এবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে দেখা যাবে ৯ এ ফুটবলারকে। এবারই হতে পারে এসব ফুটবলারদের শেষ বিশ্বকাপ।
এবার প্রথমবারের মতো অংশ নেবে ৪৮টি দল, যেখানে আগে খেলত ৩২টি দল। ম্যাচ সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টি, যা আগে ছিল ৬৪টি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটির কিংবদন্তি এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই স্টেডিয়ামটি গড়বে অনন্য ইতিহাস। কারণ ১৯৭০, ১৯৮৬ ও ২০২৬—তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের রেকর্ড হবে এর দখলে।
৯ ফুটবলারের তালিকা দেখুন:
১. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) - ৪১ বছর
পর্তুগালের অফিসিয়াল স্কোয়াডে ডাক পাওয়া এই মহাতারকা ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে নামবেন ৪১ বছর বয়সে। তার জন্মসাল ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫। এটি হবে তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা একটি অনন্য রেকর্ড। বয়সকে স্রেফ সংখ্যা বানিয়ে আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ড এখনো পর্তুগাল দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা।

২. লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া) - ৪০ বছর
ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের জেনারেল এবং রিয়াল মাদ্রিদ তারকা লুকা মদ্রিচের বয়স এখন ৪০ বছর। তিনি ১৯৮৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। এই বয়সেও তিনি ক্রোয়েশিয়াকে সফলভাবে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করিয়েছেন এবং মাঝমাঠের খেলা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
৩. গিয়ের্মো ওচোয়া (মেক্সিকো) - ৪০ বছর
মেক্সিকোর ‘দেওয়াল’ খ্যাত গোলরক্ষক ওচোয়াও এই বিশ্বকাপে ৪০ বছর বয়সে মাঠে নামবেন। তিনি ১৯৮৫ সালের ১৩ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। মেক্সিকোর হয়ে এটি ওচোয়ার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে, যা গোলরক্ষক হিসেবে এক বিশাল কীর্তি।
৪. এদিন জেকো (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা) - ৪০ বছর
বসনিয়ার অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এদিন জেকো ৪০ বছর বয়সে তার দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ১৯৮৬ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। বয়স বাড়লেও তার গোল করার সহজাত দক্ষতা এখনো কমেনি।
৫. ম্যানুয়েল নয়ার (জার্মানি) - ৪০ বছর
জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারও এই বিশ্বকাপে ৪০ বছর বয়সে দলের গোলপোস্ট সামলানোর দৌড়ে আছেন। তিনি ১৯৮৬ সালের ২৭ মার্চ জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন।

৬. ভো জিনহা (কেপ ভার্দে) - ৪০ বছর
কেপ ভার্দে জাতীয় দলের এই নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়টাতে ৪০ বছর পূর্ণ করবেন। তার আসল নাম জোসিমার জোস এভোরা ডিয়াস। তিনি ১৯৮৬ সালের ৩ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার দুর্দান্ত কিপিংয়ের ওপর ভর করেই কেপ ভার্দে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দারুণ লড়াই করছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের দলগুলোর অদ্ভুত সব ডাকনাম ও ইতিহাস
৭. কেইলর নাভাস (কোস্টারিকা) - ৩৯ বছর
রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির সাবেক এই কিংবদন্তি গোলরক্ষক এখনো কোস্টারিকার হয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের শেষ বিশ্বকাপটি রাঙাতে লড়ছেন। তিনি ১৯৮৬ সালের ১৫ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে তার বয়স থাকবে ৩৯ বছর।
৮. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) - ৩৮ বছর
মেসি এই তালিকায় বাকিদের চেয়ে কিছুটা ছোট হলেও, টুর্নামেন্ট চলাকালীন তার বয়স হবে ৩৮ বছর। তিনি ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে তিনি আবারও বিশ্বমঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত।

৯. জনি প্লাসিড (হাইতি) - ৩৮ বছর
হাইতি জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং গোলরক্ষক জনি প্লাসিড ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত খেলছেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ২৯ জানুয়ারি ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন। টুর্নামেন্ট চলাকালীন তার বয়স হবে ৩৮ বছর।