ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেট বিশ্বকাপে যত বিতর্ক

৩০ মে ২০১৯, ০৭:১৬ PM
১৯৯২ বিশ্বকাপ

১৯৯২ বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯ এর এবারের আয়োজন আজকে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে এবারের আসরের। এর আগে ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে যত বিতর্ক ছিলো সব গুছিয়ে ক্রিকেট তার সমর্থকদের প্রত্যাশার পুরোটা দিতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্রিকেটকে ভদ্রলোকের খেলা বলা হলেও অন্য গেমসগুলোর মতোই ইভেন্টের সবচেয়ে বড় আসরের আয়োজন বিশ্বকাপ মঞ্চে জন্মদিয়েছে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার। যার বেশিরভাগই এর ভক্ত-শুভাকাংখীদের নজরকাড়ার মতো। ক্রিকেট যদিও ২২ গজের খেলা, কিন্তু বর্তমান সময়ে এর পরিধি আর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।

জনপ্রিয় এমন গেমসের সবচেয়ে বড় আসরের আয়োজন হচ্ছে বিশ্বকাপ। এখন পর্যন্ত সর্বমোট এগারোটি ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজনের সাক্ষী পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ২০১৯ বিশ্বকাপের আয়োজনটা হতে যাচ্ছে ১২ তম।

ইতিহাস বলছে সেই ১৬৪৬ সাল থেকে শুরু ক্রিকেটের। তারপর ক্রমাগত নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্রিকেট বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি খেলা।

জনপ্রিয় এমন খেলার প্রথম বিতর্কটার জন্ম দিয়েছে ১৯৭৫ এর ৭ জুনের ম্যাচে। ইংল্যান্ডের মুখোমুখি ভারত। ভারতের সামনে ৩৩৫ রানের কঠিন টার্গেট। দর্শকেরা ভেবেছিলেন মুহুর্মুহু ৪ আর ৬ ধেয়ে আসবে গ্যালারির দিকে। কিন্তু হল ঠিক উল্টো। টেস্ট ম্যাচের মতো ব্যাট করল ভারত। ৬০ ওভারে মাত্র ১৩২/৩ করল ভারত। ১৭৪টা বল খেলে সুনীল গাভাস্কার করলেন মাত্র ৩৬ রান! প্রবল সমালোচিত হয়েছিল সেই ইনিংস। গাভাস্কারের এ ঐতিহাসিক আজো ক্রিকেট বিশ্বের বিনোদনের খোরাক।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ দিয়েই রঙিন পোষাকে যাত্রা শুরু ওয়ানডে ক্রিকেটের। ওই বিশ্বকাপ দিয়েই প্রথমবারের মতো চালু হয় বৃষ্টি আইন। আর শুরুতেই জন্মদেয় তুমুল সমালোচনার। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ইংল্যান্ড তোলে ৬ উইকেটে তোলে ২৫২ রান। ব্যাটিং করতে নেমে ঠিকমতো এগুচ্ছিল প্রোটিয়ারা। শেষ সাত বলে প্রয়োজন ২২ রান। ঠিক সেসময়ে বৃষ্টির হানায় বন্ধ হয়ে যায় ম্যাচটি। বৃষ্টি বন্ধের পর পরবর্তীতে খেলা মাঠে গড়ালে স্কোরবোর্ড দেখে অবাক হয়ে পড়ে প্রোটিয়ারা। স্কোরবোর্ড তখন দেখাচ্ছিল জিততে হলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ১ বলে ২২ রান। বৃষ্টি আইনে বলা কাটা হলেও রানের কোন হেরফের করেনি কর্তৃপক্ষ।

১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। সেমিফাইনাল খেলছে ভারত। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। ভারতের সামনে টার্গেট ২৫২ রান। কিন্তু খেলতে নেমে মাত্র ১২০ রানেই ৮ উইকেট পড়ে যায় ভারতের। খেলাটা হচ্ছিল ইডেন গার্ডেন্সে। দলের খারাপ পারফরম্যান্সে উত্তেজিত হয়ে পড়েন দর্শক। কিছু ক্ষণের মধ্যেই মাঠের মধ্যে একটার পর একটা বোতল উড়ে আসতে শুরু করে গ্যালারি থেকে। অনেকে গ্যালারিতে আগুনও ধরিয়ে দিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল দায়িত্বশীল পুলিশের পক্ষে। শেষমেশ খেলা বাতিল করে শ্রীলঙ্কাকেই জয়ী ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি ক্লাইভ লয়েড। বিশ্বকাপের অন্যতম লজ্জার অধ্যায় ছিল সে দিন।

৯৬-এর আরেকটা কলঙ্ক হচ্ছে, নিরাপত্তার অজুহাতে শ্রীলঙ্কায় খেলতে যেতে চায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং অস্ট্রেলিয়া। আইসিসি সম্পূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া সত্ত্বেও তারা শ্রীলঙ্কায় যেতে রাজি হননি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।

২০০৩ বিশ্বকাপ শুরু কয়দিন আগে সবচেয়ে খারাপ সংবাদটা শুনতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে। ডোপামিন টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন শেন ওয়ার্ন। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ১দিন আগে ১বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন এ অজি ক্রিকেটার। অথচ তার বিরুদ্ধে আনা উত্তেজনা নাশক যে ঔষধের কথা বলা হয়েছিল, সেটা ছিল তার মায়ের দেয়া ফিটনেস ঠিক রাখা ও আকর্ষণীয় করার মেডিসিন।

১৮ মার্চ ২০০৭ সাল। জ্যামাইকার পেগাসাস হোটেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় সে সময়ের পাকিস্তানের কোচ বব উলমারকে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের সাথে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার রাতেই মারা যান উলমার। কিন্তু তার মৃত্যু স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক আজো কোন কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। সেসময়ে কোচ উলমারের মৃত্যু পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে নাড়া দেয়।

২০০৭ সালে আরো একটি কলঙ্কিত আছে। সেই বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনের কেনসিনটন ওভালে ফাইনাল চলছিল অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে। ব্রিজটাউনের ওই মাঠে ফ্লাডলাইট ছিল না। খারাপ আবহাওয়ায় মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার নেমে আসে ফাইনালের মাঠেও। ম্যাচ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরকম হট ফেবারিট ম্যাচে কেন ফ্লাডলাইটের ব্যবস্থা ছিল না, তা নিয়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠে ক্রিকেট পাড়ায়।

২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ২৮ বছর পর ফের ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি হাতে তুলে নেয় ভারত। কিন্তু এই ট্রফি আসল না নকল, তা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। অনেকের মতে, ম্যাচ শেষে যে ট্রফি হাতে নিয়ে ভারতীয় দলের ছবি দেখা যায়, সেটা নাকি নকল ট্রফি ছিল। শোনা যায়, সেমিফাইনালের পর কলম্বো থেকে ভারতে নিয়ে আসার সময়ই বিমানবন্দরে মুম্বাইয়ের শুল্ক অফিসারেরা সেটা বাজেয়াপ্ত করেছিল।

২০১১ বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ড খেলা চলছিল। ইয়ান বেলের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদন খারিজ করেন আম্পায়ার বিলি বাওডেন। ডিআরএসের আবেদনও মানা হয়নি উইকেট থেকে আড়াই মিটার দূরে বল প্যাডে লাগায়। তুমুল বিতর্ক হয় সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে। পরে আইসিসি সেই নিয়ম পাল্টে ফেলে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রবল বিতর্ক হয়েছে।

তবে যাইহোক সার্বিক অবস্থা, ক্রিকেটের ভক্ত সমর্থকদের প্রত্যাশার যায়গাটা বিশাল। তারা বলছেন, জন্মলগ্নে ক্রিকেট শিশু ছিলো। দিন যতো গড়াচ্ছে, বয়স বাড়ছে ক্রিকেটের। আর বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট অতীতের সব কলঙ্ক মুছে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক এমন আয়োজন গুলোতে আরো সতর্ক হবে।

অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৫ শ্যালো মেশিন ধ্বংস
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল অনার্স ভর্তি আবেদনের সময় বা…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদকে হারাল বায়ার্ন
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ শর্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলল ইরান, কী আছে এতে?
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১০০ শতাংশ বৃত্তির সুযোগ 
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’, বায়ুদূষণে দ্বিতীয়
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
close