আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কোচ সাম্পাওলি ও অধিনায়ক মেসি © সংগৃহীত
প্রত্যাশার চেয়ে দারুণ এক অবস্থানে নিজেদের নিয়ে গেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল দল। যেখানে কোচের ভূমিকা যৎ সামান্য। বরং বেচারা কোচ জর্জ সাম্পাওলির কারণে বিশ^কাপের নক-আউট পর্ব থেকেই বিদায় নিতে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। নিজের ব্যর্থতার কারণে দলের সীদ্ধান্ত গ্রহণেও ভূমিকা নেই তার। বরং নিজেই খেলোয়ারদের সিদ্ধান্ত মেনে চলছেন। তবে কি অধিনায়ক মেসিই এখন আর্জেন্টাইন দলের ড্রেসিং রুমের কোচ? বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের দুটি বিশৃঙ্খল ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচে তারই ইঙ্গীত পাওয়া গেছে। ১০ নম্বর জার্সিই এখন আজেন্টিনার খেলোয়ারদের কোচ।
মাঠের গুঞ্জন আর মিডিয়ার প্রচারনাকে আরো জোরালো করেছে কোচের স্বীকারোক্তি। কোচ নিজেই অপকটে স্বীকারও করেছেন নিজের অবস্থান ও মেসির ভূমিকা। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার বর্তমান যে দল সেটা যতটা আমার তার চেয়ে বেশি মেসির পছন্দের। মেসি জানে কিভাবে তার সর্থীদের থেকে সর্বোচ্চ রেজাল্ট আদায় করে নিতে হয়।
নাইজেরিয়ার সাথে গত মাসে আগুয়েরোকে খেলানোর বিষয়ে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিতর্কের বিষয় হচ্ছে তাকে দলের রাখার বিষয়ে মেসি কি কোচ কে বলেছিল, নাকি কোচ মেসির পরামর্শ নিয়েছিল, নাকি কোচ দলীয় অধিনায়কের উপর আস্থা রেখে নিজেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশ্ন যাই হউক, এখন আর সে প্রশ্নের মূল্য নেই। ‘পোস্ট-ট্রুথ’র এই যুগে ফুটবল ভক্তরা এটা বুঝেই নিয়েছে। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার ছিল তা সাম্পালিওকে নিতে হচ্ছে।
শুধু যে খেলোয়াররা মেসিকে মেনে চলেন তা নয়, স্বয়ও কোচ নিজেও মেসিকে মেনে চলেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ পরবর্তী মন্তব্য তারই প্রমাণ মেলে। সাম্পালিওর ভাষ্য ছিল-“লিও যখন আমাকে জড়িয়ে ধরল, আমি খুব আনন্দিত এবং গর্ববোধ করেছি। সে জানে আমি খুবই উৎসাহী, প্রতিটি দিন নিয়েই আমি উৎসাহী। সে আমাকে অনেক ভাল করেই জানে। আমরা একসাথে ঘুরেছি। যেখানে আমরা নিজেদের অনেক মুহুর্ত শেয়ার করেছি।”
সাম্পাওলি বলেন, আমরা রাশিয়াতে একই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য আর্জেন্টিনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। যেখানে আমরা সবাই একই সাথে লড়ছি। তার এসব মন্তব্যই প্রমাণ করে দলের উপর তার কর্তৃত্ব কতটু রয়েছে।